হিঙ্গলগঞ্জে শেষ মুহূর্তে নাবালিকার বিয়ে রুখল পুলিশ, নেপথ্যে চাইল্ডলাইন

ওই নাবালিকাকে সরকারি প্রকল্পের কথা জানানো হয়। সামাজিক ভাবে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত নাবালিকার বিয়ে বন্ধ হয়ে গেল বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জে। ৪ নম্বর স্যান্ডেলের বিল এলাকায় এক নাবালিকার বিয়ের খবর ব্লক প্রশাসন ও পুলিশকে দেন চাইল্ডলাইনের কর্মীরা। বিয়ের সব আয়োজন যখন সারা তখনই সেখানে হাজির হয় পুলিশ। মুচলেকা নেয় মেয়ের বাড়ি থেকে।

পুলিশ জানিয়েছে, হিঙ্গলগঞ্জে স্যান্ডেলের বিল গ্রামের এক নাবালিকার বিয়ে ঠিক হয়েছিল স্থানীয় গাবতলী গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ে উপলক্ষে খুব স্বাভাবিক ভাবেই রবিবার সকাল থেকে সাজো সাজো রব ছিল ওই নাবালিকার বাড়িতে। দুপুরেই বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন পাত্র ও এবং পাত্রপক্ষের লোকজন। চাইল্ডলাইনের কর্মীরা থেকে সেই খবর দেন হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও এবং হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশকে। যৌথ ভাবে ওই নাবালিকার বাড়িতে তাঁরা হাজির হয়ে যান। বিয়ে শুরু হওয়ার আগেই তা রুখে দেয় পুলিশ। খুলে দেওয়া হয় বিয়ের জন্য বাঁধা মণ্ডপ।

পাত্রীর বয়স আঠেরো বছর হতে মাত্র আড়াই মাস বাকি। এই অবস্থায় তাঁর বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। তাই পরিবারের লোকজন বোঝানোর চেষ্টা করেন প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে। আধিকারিকরাও বোঝান সমস্যা কোথায়। শেষ পর্যন্ত নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে মুচলেখা দিয়ে বিয়ে বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তাতে জানানো হয়েছে পাত্রীর বয়স সতেরো বছর ন’মাস পনেরো দিন।

পাত্রীর বাবার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জেনেছে তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েটি সকলের ছোট। সে দু’বছর স্কুলের পরীক্ষায় ফেল করেছে। তবে সেজন্য তাকে স্কুলে রাখা হবে না একথা স্কুল বলেনি। পুলিস জানিয়েছে, আঠেরো বছর বয়স হয়ে গেলেই সরকারি প্রকল্পের টাকা পাবে ওই নাবালিকা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই নাবালিকাকে আশ্বাস দেওয়া হয়, তাকে পরামর্শ দেওয়া হয় স্বাবলম্বী হয়ে বিয়ে করতে। সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথাও তাকে জানানো হয়। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে প্রশাসনিক ভাবে সহায়তা করা হবে। যদি ইতিমধ্যেই সে স্কুল ছেড়ে দিয়ে থাকে তা হলে প্রয়োজনে পুলিশ ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলবে বলে তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়। বিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ওই নাবালিকার যাতে সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেয় পুলিশ। অর্থাৎ এই কারণে যাতে কেউ তাকে অপদস্থ না করে সেই দায়িত্ব পুলিশ নেবে বলে তাকে জানিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More