মহামারীর মধ্যেই নাবালিকার বিয়ে! ছাদনাতলায় হাজির হয়ে রুখে দিলেন হরিহরপাড়া থানার ওসি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: সমস্ত আয়োজন সারা হয়ে গিয়েছিল। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-পড়শিরা আসতে শুরু করেছিলেন। ভোজের খাবারও প্রায় রেডি। এমন সময়েই বিয়ের মণ্ডপে হানা দিয়ে নাবালিকার বিয়ে রুখে দিলেন মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার ওসি রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

হরিহরপাড়া থানা এলাকার তরতিপুর এলাকায় রবিবার বিয়ে হচ্ছিল নবম শ্রেণির এক পড়ুয়ার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয়ে যান ওসি ও অন্যান্য পুলিশকর্মীরা। মোস্তাফা মণ্ডলের নাবালিকা মেয়ে এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। তার সঙ্গেই বিয়ে ঠিক হয়েছিল পাশের গ্রাম বহড়ান দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা, পেশায় দিনমজুর রুহুল মণ্ডলের। দুই পরিবারের সম্মতিতেই চার হাত এক হচ্ছিল।

বিয়ের অনুষ্ঠানে পুলিশ দেখেই হতভম্ব হয়ে যান মেয়ের বাবা। পুলিশ গিয়ে মেয়ের বয়স জিজ্ঞাসা করতেই পুরো কথা খুলে বলেন মোস্তাফা মণ্ডল। এরপর পুলিশের তরফে মেয়ের বাবাকে দিয়ে মুচলেকা লিখিয়ে নেয় পুলিশ। তাতে মেয়ের বাবা লেখেন, যত দিন না ১৮ বছর বয়স হবে ততদিন তিনি মেয়ের বিয়ে দেওয়ারে চেষ্টা করবেন না।

ওই নাবালিকার বয়স এখন ১৩ বছর। তরতিপুর হাইস্কুলের ছাত্রী জানিয়েছে, তারা বাবা জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিল।

এমনিতে গত কয়েক বছরে নাবালিকাদেরফ বিয়ের প্রবণতা কমেছে। অনেকের মতে, গ্রামাঞ্চলে আজ থেকে বিশ বছর আগেও যে অসচেতনতা ছিল এখন ততটা নেই। তা ছাড়া প্রশাসনের অনেকে এও দাবি করেন, কন্যাশ্রী প্রকল্প মেয়েদের পড়াশোনার ঝোঁক বাড়িয়েছে। তাই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও অনেকটা কমেছে। এবছর মাধ্যমিকেও দেখা গিয়েছে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল বেশি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More