সোমবার, নভেম্বর ১৮

কল্যাণের বিরুদ্ধে অশ্লীল পোস্টার, পুলিশ আটক করল পুলিশকেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কয়েকদিন আগেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অশ্লীল পোস্টারে ভরে গিয়েছিল গোটা শ্রীরামপুর শহর। সাদা কাগজে আলতা দিয়ে লেখা সে সব পোস্টারে এমন সব শব্দ, যা দেখে চমকে উঠেছিলেন অনেকেই। সাংসদ নিজেও প্রেস বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার নিন্দা করে তদন্ত দাবি করেছিলেন। এ বার সেই ঘটনাই চাঞ্চল্যকর মোড় নিল। সাংসদের বিরুদ্ধে অশ্লীল পোস্টার কাণ্ডে পুলিশ আটক করল এক পুলিশ অফিসারকেই।

ঘটনাটা কী?

ওই পোস্টার কারা মারল তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। সেই ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের স্টিকার সাঁটা একটি সাদা বোলেরো গাড়ি থেকে নেমে একজন পোস্টার লাগাচ্ছেন। চিহ্নিত করে দেখা যায়, ওই গাড়িটি চুঁচুড়া পুলিশ লাইনের। গাড়ির চালক অমিয় খামরুকে আটক করে পুলিশ। আটক করা হয় গাড়িটিও। তিনিই জানিয়ে দেন, পোস্টার মারার সময়ে গাড়িতে ছিলেন অফিসার সমীর সরকার। যিনি আবার রাজ্যের মন্ত্রী তথা হুগলির  সদ্যপ্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্তর ঘনিষ্ঠ। সমীরবাবু আপাতত ডিআইবি-তে পোস্টিং। তাঁকে শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে চন্দননগর কমিশনারেট। কিন্তু তিনি যাননি। রবিবার সকালেই সমীরকে আটক করেছে পুলিশ।

সাংসদ জানিয়েছেন, এই ঘটনার পিছনে দলের এক বিধায়ক, রিষড়ার এক কাউন্সিলর-সহ পুলিশের একাংশের যোগ রয়েছে। তাঁর ভাবমূর্তিতে কালি ছেটাতেই এ সব করা হয়েছে বলে দাবি কল্যাণের।

সমীর সরকার কে?

জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের একাংশের মতে, তপনবাবুর আশীর্বাদ নিয়েই চলতেন সমীর। নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত। চুঁচুড়ার এক তৃণমূল নেতার কথায়, “তপনদার বউ তো সমীরকে ভাই বলেন!” পোলবা থানার ওসি ছিলেন তিনি। ভোটের আগে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় জাঙ্গিপাড়ায়। শাসক দলের নেতাদের মতে, জাঙ্গিপাড়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর, সমীরবাবু এতটাই সক্রিয় তৃণমূল হয়ে ওঠেন যে, মানুষের বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে থানায়। জাঙ্গিপাড়া আবার কল্যাণের কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। ভোটের আগে ওই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়ে যান তিনিও।

কিন্তু পুলিশ কেন এমন কাজে নামল?

সারা রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবি হলেও শ্রীরামপুরে কল্যাণের জয় নিয়ে বিশেষ ঝক্কি পোয়াতে হয়নি শাসকদলকে। অনেকের মতে, এতেই অনেক নেতার গাত্রদাহ। এর মধ্যেই কল্যাণের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে যাঁরা পরিচিত তাঁদের অবস্থা নড়বড়ে। তপন দাশগুপ্তর ডানা ছেঁটে দিয়েছেন দিদি। বদলে জেলা সভাপতি করা হয়েছে কল্যাণের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করা দিলীপ যাদবকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটা পুরোটাই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ লড়াই। কিন্তু তাতে যে এমন পুলিশ অফিসার জড়াতে পারেন, তা আন্দাজ করতে পারেননি অনেকেই। তাঁদের কথায়, তৃণমূলের ভিতরে খেয়োখেয়ি কোন জায়গায় পৌঁছেছে, এটা তারই নমুনা।

Comments are closed.