অ্যাকাউন্ট সন্তোষপুরে, পুলিশ ও ব্যাঙ্কের সহায়তায় দৃষ্টিহীন মহিলা টাকা তুললেন ব্যাঙ্কের শক্তিগড়ের শাখা থেকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেদের গাড়ি করে ব্যাঙ্কের শাখায় নিয়ে গিয়ে টাকা তোলার পরে আবার প্রতিবন্ধী মহিলাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গেল শক্তিগড় থানার পুলিশ। থানায় ফোন করার পরে ওসি নিজে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারে উদ্যোগী হন। এব্যাপারে ব্যাঙ্ক কর্মীরাও সহায়তা করেন। এই সহায়তা পেয়ে অভিভূত হয়ে যান ওই মহিলা।

    কোভিড ভাইরাস সংক্রমণ বিশ্ব জুড়ে মহামারীর আকার ধারণ করায় সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাস পরিষেবাও পুরোপুরি চালু হয়নি। সেই কারণে অনেকে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারছেন না। সরকারি বাস থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাতেই সমস্যায় পড়ে যান পূর্ব বর্ধমানের জোতরাম এলাকার এক দৃষ্টিহীন দম্পতি।

    শক্তিগড়ে শ্বশুরবাড়ি হলেও ভারতী দেব মিদ্দার অ্যাকাউন্ট রয়েছে যাদবপুর এলাকার সন্তোষপুরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায়। ওখানেই তাঁর বাপের বাড়ি। ওই অ্যাকাউন্টে তাঁর প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা ঢোকে প্রতি মাসে। লকডাউনের ফলে সন্তোষপুরে যেতে পারেননি। আনলক পর্ব শুরু হলেও ট্রেন চলছে না। বাস চললেও তা অনিয়মিত। রেশনে চাল, ডাল পেলেও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলতে যেতে না পারায় চরম অসুবিধায় পড়েন ওই প্রতিবন্ধী দম্পতি।

    ভারতী দেব মিদ্দা ফোনে শক্তিগড় থানার ওসি কুণাল বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে সমস্যার কথা জানান। থানার ওসিও মন দিয়ে গোটা বিষয়টি শোনেন। তারপরে তিনি পূর্ব বর্ধমানের বড়শুলে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

    মঙ্গলবার শক্তিগড় থানার পুলিশ ভারতী দেবীকে নিজেদের গাড়িতে করে ব্যাঙ্কে নিয়ে যায়। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁর আধার লিঙ্ক করে এবং কেওয়াইসি জমা করে ব্যাঙ্কে তা আপডেট করে নেন। তারপরে ভারতী দেব মিদ্দা প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারেন। এ ব্যাপারে পুলিশের পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যাঙ্কের কর্মীরাও।

    ভারতী জানান, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী কেউই দেখতে পান না। তার উপরে তাঁর স্বামী দীনেশচন্দ্র মিদ্দার হৃদযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেছেন, “টাকা না থাকায় সমস্যায় পড়ে যাই। বাস না চলায় যাদবপুরে গিয়ে টাকা তোলাও যাচ্ছিল না। তাই কোনও উপায় না পেয়ে অবশেষে শক্তিগড় থানার সাহায্য চাই। থানার ওসি কুণাল বিশ্বাস নিজের উদ্যোগে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে ব্যাঙ্কের টাকা তুলতে সাহায্য করেন ও বাড়িতে পৌঁছে দেন।’’

    ব্যাঙ্ক ম্যানেজার নীরজ কুমার বলেন, “পরিষেবা দেওয়াই আমাদের কাজ। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ভারতী দেবীর কাজে সাহায্য করতে পেরে আমরা খুশি।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More