বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

আমি ব্যক্তি জীবনে ল’ইয়ার, সুযোগের অভাবে প্র্যাকটিস করি না: সার্কিট বেঞ্চ উদ্বোধনে মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর ১০ মে হেলথ ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়ে চিকিৎসকদের উৎসাহিত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, “আমি এক সময়ে এমএ, বিএড আর এলএলবি একসঙ্গে পড়েছি। তখন ওরকম নিয়ম ছিল। কিন্তু এখন আমাদের রাজ্যে অনেক ডাক্তার এমডি-এমএস পড়তে চান কিন্তু সুযোগ পান না।” শনিবার জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সে কথা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিলেন মমতা। মঞ্চে উপস্থিত হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি-সহ একাধিক বিচারপতির সামনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে এ দিন তিনি বলেন, “আমিও আপনাদের গোত্রেরই। ব্যক্তিগত জীবনে আমি একজন আইনজীবী। কিন্তু সুযোগ পাই না। তাই প্র্যাকটিস করতে পারি না।”

এ দিন সার্কিট বেঞ্চ উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে আইনজীবীদের পরামর্শও দেন মমতা। বলেন, “একজন ল’ইয়ার একসঙ্গে এত কেস নিয়ে ফেলেন যে সামলাতে পারেন না। ভাবুন তো যাঁরা আসেন, তাঁরা কত কষ্ট করে পয়সা জোগাড় করেন। আমরা বলি কোর্টে ছুঁলে আঠারো ঘা। কত মানুষের ঘটিবাটি বিক্রি করে দিতে হয় মামলা লড়তে।”

বিচার ব্যবস্থায় ইংরাজি ভাষার থেকে স্থানীয় ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও এ দিন বলেন মুমখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের অনেক আইনজীবী আছেন আইনটা বোঝেন। কিন্তু অতটা ভাল ইংরাজি জানেন না। তাঁর ব্যাপারটাও আমাদের ভাবা উচিত। কারণ আমাদের তো সবাই বাংলা মিডিয়ামে পড়েন। তাই ঝরঝরে ইংরাজি বলতে পারেন না।”

এ দিনের অনুষ্ঠানেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে খোঁচা দিতে ছাড়েননি মমতা। বলেন, “রাজ্যে ৮৮টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট রয়েছে। তার মধ্যে ৫৫টি মহিলাদের জন্য। কিন্তু কেন্দ্র এই কোর্টগুলির সমস্ত টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা রাজ্য সরকারের খরচায় এগুলি চালাচ্ছি ।” তাঁর সরকার আসার পর থেকে উত্তরবঙ্গের কী কী উন্নয়ন হয়েছে তারও ফিরিস্তি দেন এ দিন। মমতা বলেন, “শুধু সার্কিট বেঞ্চ নয়। কলকাতায় চিড়িয়াখানা ছিল। কিন্তু উত্তরবঙ্গের মানুষের আক্ষেপ ছিল এখানে কেন তেমন কিছু নেই। আমরা বেঙ্গল সাফারি পার্ক করে দিয়েছি। গিয়ে দেখে আসবেন, খুব সুন্দর জায়গা।” তাঁর কথায়, “জলপাইগুড়ি জেলা পাহাড়, নদী, তিস্তা, দিস্তা, জঙ্গল মিলিয়ে প্রকৃতির ভূস্বর্গ।”

গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের আগেই কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সার্কিট বেঞ্চে সিল্মোহর দিয়ে দিয়েছিল। নরেন্দ্র মোদী এসে তা উদ্বোধনও করেছিলেন। কিন্তু সে সময় মুখ্যমন্ত্রী ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। রাজ্য সরকার বা হাইকোর্টের কাউকে না জানিয়ে সেই উদ্বোধনকে মমতা বলেছিলেন, “বর নেই, কনে নেই, বাইরে থেকে এসে ব্যান্ডপার্টি বাজাচ্ছে।” তার পরেই যদিও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জানিয়েছিলেন ৯ মার্চ হবে সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন। কিন্তু তখন জল্পনা তৈরি হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর থাকতে পারা নিয়ে। কারণ অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন মার্চের প্রথম সপ্তাহেই হয়তো ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তা হলে নির্বাচন বিধির জন্য মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারতেন না। কিন্তু তা হয়নি। তাই এ দিন সার্কিট বেঞ্চ উদ্বধনের মঞ্চে ছিলেন তিনি।

Shares

Comments are closed.