গ্রহণ দেখতে ইছামতীর পাড়ে মিলল দুই বাংলা, কুলটিতে বিশেষ উদ্যোগ বিজ্ঞানমঞ্চের

২২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বসিরহাট ও কুলটি: গত মাসের ২১ তারিখের কথা মনে পড়ে? আগের রাতেই ভয়াবহ উমফান আছড়ে পড়েছিল বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। তছনছ হয়ে গিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা।

একমাস কেটে গিয়েছে। বসিরহাট শহর এলাকা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। এদিন দেখা গেল বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে ইছামতীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো মানুষ। শুধু এপারে নয়। নদীর ওপারে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ নদীর ধারে আসেন গ্রহণ দেখতে।

দুর্গাপুজোর দশমীর বিকেলে ইছামতীর তীরে দেখা যায় দুই বাংলার মিলন উৎসব। এদিন সকালে সেরকমই দৃশ্য দেখা গেল বসিরহাটে। ইছামতী ব্রিজ ও টাকি সীমান্তের পাড়ে শতাব্দীর গভীরতম সূর্যগ্রহণ দেখতে ভিড় জমান ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। যত বেলা বেড়েছে, তত বেড়েছে ভিড়।

এদিন পৃথিবী থেকে সূর্যকে দেখতে লেগেছে একটা গোলাকার রিং বা আংটির মতো। জানা গিয়েছে, আজ এই গ্রহণ এত দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে যা গত ১০০ বছরে দেখা যায়নি। সেইসঙ্গে এই গ্রহণের সময় যে বৃত্তাকার রিং তৈরি হবে তার মাত্রা দেখে একে শতাব্দীর গভীরতম সূর্যগ্রহণ বলছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ যাতে গ্রহণ দেখতে পান তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চ। কুলটির মিঠানিতে বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে বিশেষ চশমা দিয়ে গ্রহণ দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষ এদিন উপস্থিত ছিলেন। তবে এদিন আকাশ মেঘলা থাকায় বিরলতম মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে না পারায় মন খারাপ নিয়েই বাড়ি ফিরে যান মানুষ।

তবে মানুষের উৎসাহ দেখে খুশি বিজ্ঞান মঞ্চের নেতারা। সংগঠনের রাজ্য কাউন্সিল সদস্য কিংশুক মুখোপাধ্যায় বলেন, সূর্যগ্রহণকে ঘিরে নানা ধরনের কুসংস্কার ছড়াচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে গ্রামের সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী কুসংস্কারকে দূরে সরিয়ে সুর্যগ্রহন দেখার জন্যে হাজির হয়েছন,এটাই বড় প্রাপ্তি ৷” তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যেত। কিন্তু মেঘলা থাকার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আজ থেকে বছর কুড়ি আগেও গ্রহণ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার, ভয় কাজ করত তা অনেকটাই কেটেছে। বিজ্ঞানমঞ্চের কর্মীদের বক্তব্য, কুসংস্কার দূরীকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি। একে ধারাবাহিক  ভাবে চালিয়ে যেতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুললেই তাঁরা ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More