গুরুংয়ের ডিগবাজিতে স্তম্ভিত পাহাড়, তৎপরতা অনুগামীদের, উদ্বেগ তামাং শিবিরে

৪০,০৮৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং: তিন বছর গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর পঞ্চমীর বিকেলে হঠাৎ দেখা মিলেছিল বিমল গুরুংয়ের। সটান হাজির হয়েছিলেন সল্টলেক সিটি সেন্টারের উল্টোদিকে গোর্খা ভবনে। বিধাননগর থেকে সে খবর পাহাড়ে পৌঁছতে বেশি সময় লাগেনি। আর তারপর থেকেই পাহাড় কার্যত স্তম্ভিত।

দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক, কার্শিয়াংয়ের বাঁকে বাঁকে এখন একটাই প্রশ্ন, হঠাৎ এমন ডিগবাজি কেন খেলেন বিমল গুরুং? অনেকে এও, বলছেন, সেই যদি দিদির কাছে গিয়েই ভিড়লেন, তাহলে ২০১৭ সালে ওই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করার দরকারটা কী ছিল?

গোটা পাহাড় এখন প্রহর গুনছে কবে গুরুং দার্জিলিংয়ে পা রাখবেন। সকলেই তাকিয়ে নতুন সমীকরণের দিকে। আর সেই সমীকরণ কী হতে চলেছে তা নিয়ে একাধিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন অনুমান করতে শুরু করে দিয়েছে। অন্য দিকে কলকাতার তিনতারা হোটেলে বিমল গুরুংয়ের সাংবাদিক বৈঠকের পরেই পাহাড়ে দৌত্য শুরু করে দিয়েছেন তাঁর অনুগামীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুরুং ঘনিষ্ঠরা দার্জিলিংয়ের টাকভোরে একটি গোপন বৈঠক করেছেন বলেও খবর। আর এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিনয় তামাং, অনীশ থাপাদের শিবিরে। অনেকেই বলছেন, বিনয় তামাংদের আশঙ্কা রয়েছে গুরুং যে দিন পাহাড়ে পা রাখবেন সেদিন থেকেই জিটিএ-তে বিনয় তামাংদের রাস আলগা হতে শুরু করবে।

২০১৭ সালে নজির বিহীন হিংসা দেখেছিল পাহাড়। আগুন, লুঠপাট, বনবাংলো জ্বালিয়ে দেওয়া, পুলিশ খুন, সাধারণ ১৭ জন নাগরিকের জীবনহানি, ১০৪ দিন লাগাতার বনধ—কী হয়নি পাহাড়ে। তারপরই বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা রুজু হয়। পাহাড় ছেড়ে গা ঢাকা দেন বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা।

তারপর আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। জিটিএ-তে বসানো হয় বিনয় তামাংদের। যদিও রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলতেন, পাহাড়ে বিমল গুরুং যতটা বলিষ্ঠ নেতা বিনয় তামাং তার সিকি ভাগও নন। অনেকে এও বলেন, রাজ্যের শাসকদল একজন বিড়ালকে ডোরাকাটা জামা পরিয়ে বাঘ সাজানোর চেষ্টা করছে!

উদ্বেগ থাকলেও তা প্রকাশ করছে না বিনয় তামাং শিবির। জিটিএ চেয়ারম্যান অনীশ থাপা বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। পাহাড়ে উন্নয়নের কাজ চলবে।” তিনি আরও বলেন, “গুরুং যদি ২০১৭ সালে এ কথা বুঝতেন তাহলে পাহাড়ের এত ক্ষতি হতো না।”

তবে সিপিআরএমের গোবিন ছেত্রী বা অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগের প্রতাপ খাতিদের বক্তব্য, এই ভোলবদল আসলে ধোঁকা দেওয়ার কৌশল। তবে কাকে ধোঁকা দিচ্ছেন বিমল গুরুং তা তাঁরা স্পষ্ট করেননি। অন্যদিকে পাহাড়ের একদা শক্তিশালী সংগঠন জিএনএলএফ নেতৃত্ব বলছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সলাপরামর্শ করেই গুরুং সবটা করেছেন।

সব মিলিয়ে পাহাড় এখন তাকিয়ে রয়েছে গুরুংয়ের আবির্ভাবের পর নতুন সমীকরণ কী হয় তার দিকে। একুশের বিধানসভার ছ’মাস আগে পাহাড়ের এই নতুন রঙে কৌতূহল তৈরি হয়েছে রাজ রাজনীতিতেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More