বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২
TheWall
TheWall

অসমে এনআরসি তালিকা প্রকাশ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটালো সীমান্ত লাগোয়া আলিপুরদুয়ারও

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে ও পরে ঘরে ঘরে উৎকণ্ঠায় দিন কাটালেন লাগোয়া আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দারাও। কেউ সারাদিন টিভিতে চোখ রাখলেন। কেউ আবার আত্মীয়-পরিজন বা বন্ধুবান্ধবের নাম তালিকায় না থাকায় কীভাবে তা তালিকাভুক্ত করা যাবে, সেই খোঁজ নিতেই দিন কাটালেন।

শনিবার সকাল থেকে এই ছবি আলিপুরদুয়ার জুড়ে। অনেকের বাড়িতেই উনুন জ্বলেনি। অসম সীমান্ত লাগোয়া কুমারগ্রাম ব্লকের বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বেশি। লাগোয়া জায়গা হওয়ায় অসমের সঙ্গে কুমারগ্রামের যোগাযোগ অনেক গভীর। বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে বিয়ের সম্পর্ক, এই দুই জায়গায় অনেক বেশি। নানা প্রয়োজনে দু’জায়গার মানুষের যোগাযোগ হয়। তাই এই ব্লকে যেন বিষাদের ছবিটা আরও বেশি ছিল।

এনআরসি তালিকায় নাম থাকায় যেমন পরিচিতদের মুখে চওড়া হাসি দেখা গিয়েছে, তেমনই নাম না থাকায় অনেকের মুখের হাসি মিলিয়েও গিয়েছে। যেমন কণক কান্তি সরকারের মুখের হাসি সকাল থেকেই উধাও। আলিপুরদুয়ার পুরসভায় চাকরি করেন তিনি। অসমের নিউ বঙ্গাইগাঁওয়ে সোমা গুহর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তাঁর। সকাল থেকেই চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন তাঁরা। কণকবাবুর শ্বশুর প্রাক্তন রেলকর্মী অসিত গুহ, শ্যালক মিন্টু গুহ ও শ্যালকের ছেলে বিবেক গুহর নাম নেই এনআরসি তালিকায়। বাড়িতে বসে হতাশ কণকবাবু বলছিলেন, “বাড়িতে সবার খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একই জায়গায় থেকে এরকম অবস্থা হলে কীভাবে কেউ খাওয়া দাওয়া করতে পারবে বলুন তো। সবাই খুব চিন্তায় রয়েছে। আমার স্ত্রী খুব ভেঙে পড়েছেন।”

অবশ্য অসম বাংলা সীমান্তে এই ঘটনার কোনও প্রভাব পড়েনি। আলিপুরদুয়ারের অসম সীমান্তে পাকড়িগুড়ির বাসিন্দা মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “সীমানায় এই ঘটনার কোন প্রভাব নেই। অসমের দিকে সীমানা লাগোয়া শিমুলটাপু এলাকায় হাট প্রতি শনিবারের মতোই এ দিনও স্বাভাবিক ভাবেই হয়েছে। অসমে কোন গন্ডগোল হলেই এই হাট এ পারে পাকড়িগুড়িতে চলে আসে। কিন্তু শিমুলটাপুতেই সাপ্তাহিক এই হাট হওয়া মানে কোন সমস্যা নেই ওপারে। আর এপারেও কোন সমস্যা নেই।”

আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মীনা বলেন, “ এই বিষয়ে রাজ্য থেকে কোন নির্দেশ এখনও আসেনি। এদিকের পরিস্থিতি সব ঠিক রয়েছে। আমরা সব রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছি। ” একই সুরে কথা বলেছেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠিও। পাকড়িগুড়ি সীমানার চেকপোষ্টে প্রতিদিনের মতো নাকা চেকিং চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Comments are closed.