শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

সমঝে চলো, এ বছর কিন্তু ছাত্র ভোট, টিএমসিপি-কে বার্তা পার্থর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বছর রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে বলে দলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূলে ছাত্র পরিষদের সামনের সারির নেতাদের বার্তা দিয়ে দিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শনিবার দলের ছাত্র নেতাদের নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠকে বসেছিলেন পার্থ। সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি ছাত্র নেতাদের সমঝে দিয়ে বলেছেন, “বিরোধীরা যদি মনোনয়ন দেয়, তাহলে তা করতে দিতে হবে। তোমরা ছাত্রদের মনে জায়গা করো। আর যদি হারো, তাহলে বুঝতে হবে তোমরা ছাত্রদের কাছে পৌঁছতে পারোনি।”

এ দিনের বৈঠকে পার্থবাবু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা প্রাক্তন ছাত্রনেতা তাপস রায়। তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, আবিররঞ্জন নিয়োগীদের মতো ছাত্র নেতাদের উদ্দেশে পার্থর স্পষ্ট বার্তা, “প্রতিটি কলেজে ইউনিট তৈরি করতে হবে। পাশ করে যাওয়ারা যেন পদ আঁকড়ে না থাকে। নতুনদের জায়গা করে দিতে হবে। আমার লোক, তোমার লোক করা যাবে না। ” অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের সঙ্গে আচরণের ব্যাপারেও এ দিনের বৈঠকে সতর্ক করা হয়।

গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যে ছাত্র ভোটে তৃণমূলের একাধিপত্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের কলেজগুলিতে এখন বিরোধী বলতে প্রায় কিছুই নেই। তৃণমূলের আতঙ্ক তৃণমূলই। তাঁদের মতে, এলাকার তৃণমূল নেতাদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের প্রভাব সরাসরি পড়ে কলেজের ভোটে। নেতারা চান, তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকুক ছাত্র ইউনিয়ন। অনেকে আবার বলছেন, প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই হয়তো হঠাৎ গণতান্ত্রিক বোধ জেগে উঠেছে তৃণমূলের।

গত বার ছাত্র ভর্তি নিয়ে.সিন্ডিকেটের অভিযোগে জেরবার হয়েছিল টিএমসিপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া হয় সংগঠনের রাজ্য সভানেত্রী জয়া দত্তকে। ২৮ অগস্ট টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ হয় সভাপতিহীন। কিন্তু এ বার ভর্তি অনলাইন হওয়ায় সেই ঝামেলা পোয়াতে হয়নি। তবে ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস শুরু হতেই একাধিক জায়গায় টিএমসিপি-এবিভিপি সংঘর্ষ হয়েছে। উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝেই পার্থবাবুরা এই বার্তা দিয়েছেন। কারণ তৃণমূলও বুঝে গিয়েছে, দখলের ভোট আর করা যাবে না।

Comments are closed.