বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

সৌমিত্র জানত, ওকে এ বার টিকিট দেবে না মমতা: পার্থ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খান যে তৃণমূল ছাড়বেন সেই দেওয়াল লিখন অনেক আগেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। সৌমিত্র যে জমি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন, সে খবরও প্রথমে দ্য ওয়াল-ই জানিয়েছিল।

বুধবার, আনুষ্ঠানিক ভাবে সৌমিত্র বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করলেন, বিষ্ণুপুরের সাংসদ দল ছাড়ার আগেই এ দিন সকালে তাঁকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। পার্থবাবু জানান, সৌমিত্রকে দল থেকে বহিষ্কার করার চিঠিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “ওর সঙ্গে বহুদিন ধরে দলের কোনও সম্পর্ক ছিল না। বিষ্ণুপুরের মানুষের সঙ্গেও ওর যোগাযোগ ছিল না। সৌমিত্র জানতেন এ বার ওকে লোকসভার টিকিট দেওয়া হবে না।“

পাশাপাশি সৌমিত্র-র দল ছাড়ার প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “যতক্ষণ মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থাকবে ততদিন নম্বর থাকবে। মাথার উপর থেকে হাত উঠে গেলে সৌমিত্র খান জিরো। ববি হাকিমও জিরো। সব্বাই জিরো।”

তবে পার্থবাবুর কথা খণ্ডন করেন সৌমিত্র। বলেন, “আমি কোনও বহিষ্কারের চিঠি পাইনি। তৃণমূল আমাকে বহিষ্কার করবে কী, আমিই তৃণমূলকে আমার রাজনৈতিক জীবন থেকে বহিষ্কার করেছি।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার বিরুদ্ধে তো দলের অভিযোগ রয়েছে? জবাবে সৌমিত্র বলেন, কেন? আমি কী করেছি? সারদা-চিট ফাণ্ডের টাকা নিয়েছি? সেই অভিযোগ তো আমার বিরুদ্ধে নেই। যাঁরা চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত, তাঁরাই কালীঘাট চত্বরে ঘুরঘুর করেন।”

সৌমিত্র ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, দলের সঙ্গে বিষ্ণুপুরের সাংসদের সম্পর্ক ছিল না এ কথাও ঠিক নয়। মাত্র বিশ দিন আগে ১৯ ডিসেম্বর বাঁকুড়ায় সভা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সভাতেও উপস্থিত ছিলেন সৌমিত্র। তিনি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। তবে তিনি যে দল ছাড়বেন, তার পরদিন থেকেই খোলাখুলি ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছিলেন সৌমিত্র। প্রসঙ্গত, সে দিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রথমবার তোপ দেগে সৌমিত্র দ্য ওয়াল-কে বলেছিলেন, বাঁকুড়ায় তৃণমূলের যুব কর্মীদের উপর অত্যাচার চলছে। তাঁর উপরেও অত্যাচার হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খাঁ-র দিকে আঙুল তুলেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে এও বলেছিলেন, অনেক দিন চুপ করে ছিলাম। কিন্তু আজ থেকে মুখ খোলা শুরু করলাম।

তৃণমূল শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, এটা ঠিক যে সৌমিত্রর কাজে খুশি ছিলেন না তৃণমূলনেত্রী। এমনকি দেড় বছর আগেই দলের কোর কমিটির বৈঠকে সৌমিত্রকে একবার যা তা বলেছিলেন মমতা। দিদি এও বলেছিলেন, কী সৌমিত্র দল করবে নাকি বালি খাদানের টাকা তুলেই দিন চলে যাবে! তার পরেও সতর্ক হননি সৌমিত্র। তবে গোটা ব্যাপারটা ঠিক মতো সামলাতে পারেনি দল। সৌমিত্রকে যে টিকিট দেওয়া হবে না সেটা ওঁকে আগে বুঝিয়ে দেওয়া ভুল হয়েছিল। ভোটের মুখে এসে ও টিকিট না পেয়ে দল ছাড়লে সেটার কোনও গুরুত্ব থাকতো না।

তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্যের ভোটে, বিজেপি হেরে যাওয়ার পর কিছুটা দমে গিয়েছিল। বাংলাতেও কিছুটা দমে ছিল। কিন্তু সৌমিত্র বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় গেরুয়া শিবির কিছুটা হলেও অক্সিজেন পাবে। তৃণমূলে এও আশঙ্কা দল ছাড়ার ব্যাপারটা শুধু সৌমিত্র-তেই থেমে থাকবে না। তালিকায় হয়তো আরও কয়েক জন রয়েছেন।

Shares

Comments are closed.