বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

বিজেপি-র সদস্য তালিকায় ‘মমতা’, এ কী নীচতা, ফুঁসে উঠলেন পার্থ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে ছবি। দেখা যাচ্ছে, বিজেপি-র সদস্য তালিকায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এবং ছবি। রাহুল গান্ধীর মেম্বারশিপ নম্বর ৪২০ এবং মমতার ৯৫১২। তবে এ নিয়ে কংগ্রেস কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও বিজেপি-র বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল তৃণমূল।

মঙ্গলবার বিধানসভায় নিজের ঘরে বসে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, একটা রাজনৈতিক দল কতটা নীচে নামতে পারলে এই কাজ করতে পারে সেটা ভাবার সময় এসেছে।

এ দিন পার্থবাবু বলেন, “কোথায় নেমেছে এরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে বলছে ভারতীয় জনতা পার্টির মেম্বারশিপ নিয়েছে! কতটা নীচে নেমেছে ভাবুন। আমরা জানি এরকম বেনামে ফেসবুক দিয়ে বিজেপি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে।” সেই সঙ্গে পার্থবাবু হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “দল থেকে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তৃণমূলের মহাসচিবের কথায়, “মানুষকে বিভ্রান্ত করে, কর্মীদের বিভ্রান্ত করে বিজেপি যা করতে চাইছে, এটা গণতন্ত্রের একটা অশুভ দিক।”

পার্থবাবুর এই কথার প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য বিজেপি-র অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লুকিয়ে লুকিয়ে যদি বিজেপি-র মেম্বারশিপ নেন, তাহলে আমরা কী করতে পারি? পার্থবাবু বরং দিদিমণিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, উনি মেম্বারশিপ নিয়েছেন কি না!”

বিজেপি-র সদস্যতা অভিযান চলছে গোটা দেশ জুড়ে। অনলাইনেও ফর্ম ফিলআপ করে নেওয়া যাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের সদস্যপদ। সেখানে যে ভাবে একটি নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে, ছবি দিয়ে সদস্যপদ দেওয়া হচ্ছে, মমতা-রাহুলের ক্ষেত্রেও একই রকম একটি ফর্ম (ছবি আকারে) ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

যদিও রাজনৈতিক মহলের অনেকের বক্তব্য, এমন ছুটকোছাটকা বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়া মানে গোটা ব্যাপারটার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেওয়া। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এ সব নিয়ে কথা বলা মানেই সময় নষ্ট। আর তৃণমূল সেটাই করছে। যদিও অনেকে আবার এ-ও বলছেন, তৃণমূল যদি প্রতিক্রিয়া না দিত, তা হলে এই প্রচার মান্যতা পেয়ে যেত। সে দিক থেকে বাংলার শাসক দল ঠিক কাজই করেছে।

Comments are closed.