উনি ঘুরুন, কিন্তু সরকারের পয়সা নষ্ট করবেন না, রাজ্যপালকে তোপ পার্থর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকার-রাজ্যপাল সংঘাতে বৃহস্পতিবার সকালেই বিধানসভার গেটে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। টানা ১৮ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানকে। তাঁর গাড়ি পর্যন্ত বিধানসভার ভিতর ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দুপুরে গোটা ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ শানালেন জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে। সোজাসুজি বলে দিলেন, “উনি ঘুরুন। আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারের পয়সা নষ্ট করবেন না।” শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “কোথাও কিছু হলেই চলে যাচ্ছেন, দাঁড়িয়ে থাকছেন আর ছবি তুলছেন। মানুষের মনে তো প্রশ্ন আসতেই পারে, উনি কি ছবি তোলার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন?”

    আরও পড়ুন: ‘চন্দ্রযান ২ মিশন ব্যর্থ, দেশের নাম খারাপ হয়েছে,’ সংসদে সৌগত রায়ের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক

    রাজ্যপালের জেলায় জেলায় চলে যাওয়া যে শাসকদল ভাল ভাবে নেয়নি, তা আগেই জানা গিয়েছিল। এমনকি মুর্শিদাবাদ সফরের সময়ে রাজভবন থেকে হেলিকপ্টার চাওয়া হলে নবান্নের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় হেলিকপ্টার নেই। এরপর রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “রাজ্যপালের কেন হেলিকপ্টার লাগবে তা আমাদের দেখতে হবে। এটা তো মানুষের টাকা!” এদিন পার্থবাবুও রাজভবনের খরচের প্রসঙ্গ তোলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর পার্শ্বশিক্ষকরা ওখানে গিয়ে দাবি করতে পারেন, আপনাদের এত বেড়েছে আমাদের বাড়েনি!”

    এখানেই থামেননি পার্থবাবু। তাঁর কথায়, “অতীতে বামপন্থীদের দেখেছি অনেক কড়া কড়া রাজ্যপালকে মোকাবিলা করতে। কিন্তু আমরা তো মোকাবিলা করতে চাই না। সহাবস্থান চাই।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ওঁর কাজকর্মকে বাংলার মানুষ মোটেই ভাল ভাবে নিচ্ছেন না। সর্বশেষ রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকেও দেখেছি। লোকে তাঁর কবিতা শুনতে যেতেন। আর এখন সংবাদমাধ্যম ছোটে, উনি কী ভাষণ দেবেন সেটা শুনতে। এই রাজ্যপাল কী চাইছেন সেটাই বুঝতে পারছি না।”

    রাজ্যপাল এদিন বলেন, “বিধানসভা মুলতবি রয়েছে জেনেই আসতে চেয়েছিলাম। কারণ, এই ভবন ঐতিহাসিক। এখানকার পাঠাগারও খুবই সমৃদ্ধ। সেসব দেখার ইচ্ছা ছিল। স্পিকার সাহেবও খুবই উৎসাহিত ছিলেন শুরুতে। তার পর কী হল জানি না!” এখানেই না থেমে রাজ্যপাল বলেন, “বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ রয়েছে মানে এই নয় যে বিধানসভার সচিবালয় বন্ধ। কিন্তু তার পরেও যেভাবে গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে তা অতি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। গণতন্ত্রের জন্য কোনও ভাবেই এটা শুভ লক্ষণ নয়।” এ প্রসঙ্গে পার্থবাবু বলেন, “বিধানসভার ব্যাপারটা রাজ্যপালের দেখার বিষয় নয়। ওখানে স্পিকারই শেষ কথা।” সব দেখে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, এই সংঘাত বোধহয় থামার নয়। চলতেই থাকবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More