রবিবার, এপ্রিল ২১

একদম একশো ভাগ ভোট চাই তৃণমূলে, নির্দেশ শোনা গেল অডিও ক্লিপে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত পোহালেই প্রথম দফার ভোট। আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার, বাংলার এই দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে বৃহস্পতিবার। কিন্তু ভোটের যখন চব্বিশ ঘণ্টা বাকি নেই, তখন একটি বিস্ফোরক অডিও ক্লিপিং ফাঁস হয়ে গেল। যা নিয়ে কমিশনের কাছে যাচ্ছে বিজেপি।

অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, সব ভোট তৃণমূলের পক্ষে ফেলতে হবে। এবং সেই ব্যক্তি কর্মীদের অভয় দিচ্ছেন, সব বুথে কেন্দ্রীয়বাহিনী থাকবে না। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, কিছু ভোট ফরওয়ার্ড ব্লক, কিছু বিজেপি-কে ভোট দিয়ে বাকি তৃণমূলকে দিলে হবে না। একদম একশ শতাংশ ভোট ফেলতে হবে ঘাসফুলের ঝুলিতে।

বিজেপি-র অভিযোগ, কোচবিহারের ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি খোকন মিয়াঁ মঙ্গলবার রাতে কর্মিসভা করে এই নির্দেশ দিয়েছেন। দ্য ওয়াল-এর হাতেও ওই অডিও ক্লিপিং এসেছে। কিন্তু তার সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল। গোটা বিষয়টি নিয়ে কমিশনে অভিযোগ জানাচ্ছে গেরুয়া শিবির।

ওই অডিও ক্লিপিং-এ যা কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, তাতে এও বলা হচ্ছে, সেক্টর অফিসার তাঁর কন্ট্রোলে। সবটা তিনি দেখে নেবেন। তাঁর কথায়, “যত চ্যাংড়া-ব্যাংড়া আছো, সবাইকে ভাল করে ভোট করতে হবে।” মৃদু হুমকির সুরে তিনি বলেন, ভোটের পর সব চিহ্নিত করা হবে। দলের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে এ ব্যাপারে।

কোচবিহারের পুলিশ সুপার নিয়ে বিজেপি ছাড়াও সিপিএম, কংগ্রেস সব দলেরই অভিযোগ ছিল। বিরোধীরা দফায় দফায় কমিশনকে জানিয়েছে, অভিষেক গুপ্ত শাসক দলের পেটোয়া অফিসার। মঙ্গলবার তাঁকেই সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। অমিত কুমার সিংকে আনা হয়েছে তাঁর জায়গায়। কে অমিত অমিত কুমার সিং? না যাকে বিহারেরর আরারিয়ার পুলিশ পর্যবেক্ষক করে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছিল। বিহার থেকে কোচবিহারে আনা হয়েছে তাঁকে।

অনেকেরই প্রশ্ন, এ বার বাংলায় ভোট হবে তো? বিরোধীরা বারবার করে পঞ্চায়েতের ছবি তুলে ধরেছিল কমিশনের সামনে। কমিশন দফায় দফায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইতিমধ্যেই। কলকাতা, বিধান নগরের পুলিশ কমিশনারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি-র অভিযোগ ছিল, কোচবিহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়বাহিনীর বন্টনও ঠিক ভাবে করেননি অভিষেক গুপ্ত। প্রায় ৯০০ বুথকে কেন্দ্রীয়বাহিনীহীন রেখে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই অডিও ক্লিপ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল তৃণমূল নেতা খোকন মিয়াঁর সঙ্গে। তিনি এই অডিও ক্লিপকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর কথায়, “বিজেপি প্রার্থী জেনে গিয়েছেন জিতবেন না। তাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুৎসা করতে এই সব সাজানো গল্প বলছে।” অডিও ক্লিপের কণ্ঠস্বর তাঁর নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্য দিকে আরও একটি ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। যেখানে বিজেপি কর্মীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, তাঁরা পতাকা লাগাচ্ছেন আর তৃণমূলের বুথ সভাপতি জনৈক লাল্টু সরকার তাঁদের বেধড়ক মারছেন, গালিগালাজ করছেন। এই ফুটেজটি উত্তরবঙ্গের বলেই দাবি বিজেপি নেতাদের। মহিলামোর্চার সভানেত্রী তথা হুগলি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও এই ফুটেজটিকে রিটুইট করেছেন।

ভোটের আগের সকালে যখন ভোটকর্মীরা ইভিএম সংগ্রহ করছেন নির্দিষ্ট বুথে যাওয়ার জন্য, প্রশাসনে তৎপরতা তুঙ্গে, তখন অধিকাংশ মানুষের মনেই ঘুরেবেরাচ্ছে সেই প্রশ্ন, ভোটটা আদৌ ঠিকঠাক হবে তো?

Shares

Comments are closed.