বুধবার, জুন ২৬

মাথাহীন এজেন্সি এখন মেরুদণ্ডহীন বিজেপি, টুইটে আক্রমণ মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখনও খুরদারোড আদালতে তোলা হয়নি প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকে। এর মধ্যেই শুক্রবার সক্কাল সক্কাল হরিয়ানার প্রাক্তন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র হুডার বাড়ি-সহ ৩০টি জায়গায় তল্লাশিতে নেমেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাজে ব্যবহারের জন্য বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ শানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা বারোটা বাজার পর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একটা নয়, তিন তিনটি টুইট করলেন মমতা। যার একটিতে লিখলেন, “মাথাহীন এজেন্সি এখন মেরুদণ্ডহীন বিজেপি-তে পরিণত হয়েছে।”

মোদী সরকার যে বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে সিবিআই বা ইডি-র মতো সংস্থাকে লেলিয়ে দিচ্ছে, এই অভিযোগ মমতা বা তৃণমূলের নতুন নয়। এ দিন আরও একবার সেই অভিযোগ তুললেন দলনেত্রী। লেখেন, কলকাতা থেকে দিল্লি তো বটেই, দেশের সর্বত্র কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে দিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে ।

বিষ্যুদবার দুপুরে কসবার অভিজাত শপিংমলের আঠেরো তলার অফিস থেকে কার্যত তুলে নিয়ে এসে সিবিআই গ্রেফতার করে টলি পাড়ার নাম্বার ওয়ান প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকে। তারপরেই তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, “সিবিআই-এর এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের জন্য বিপদ।” এ দিন মমতা টুইট কে অস্ত্র করে  আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে দিলেন।

গতকাল রাতেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিবিআই জানিয়েছিল চিটফাণ্ডের টাকা ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি কেনানোর ব্যাপারে শ্রীকান্ত মোহতাই ছিলেন হোতা। তারপর থেকেই রাজনৈতিকমহলে গুঞ্জন, তাহলে কি সিবিআই এ বার বাংলার শাসক দলের একেবারে উপরের দিকে হাত বাড়াতে চাইছে?

মমতা এ দিন টুইটে লেখেন, অখিলেশ, মায়াবতী, কাউকেই বাদ দিচ্ছে না ওরা। পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সর্বত্র এক কাজ করছে বিজেপি। পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসবে ততই বাড়বে ধরপাকড়। অনেক দিন চাপা পড়ে থাকার পর হঠাৎ করে গা ঝাড়া দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবে তাঁরা এ-ও বলছেন, বাংলার চিটফাণ্ড তদন্তে এ কথা খাটে না। কারণ এখানে ঢিমে তালে হলেও তদন্ত চলছিলই। কয়েকমাস আগেও ব্যবসায়ী সুদীপ্ত রায়চৌধুরী এবং এক বর্ষীয়ান সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছিল ইডি।

ব্রিগেডের সমাবেশেও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন দিদি। বলেছিলেন, “রাজনীতিতে লক্ষ্মণরেখা বলে একটা ব্যাপার থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার কিচ্ছু মানছে না। লালুজিকে জেলে পাঠিয়েছে। অখিলেশকে ধরে টানছে, মায়াবতীজিকে ধরে টানছে, এমনকী আমাকেও বাদ দিচ্ছে না।” এখন দেখার রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর টুইটের পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের এক মুখপাত্র বলেন, “শ্রীকান্ত মোহতা তো তৃণমূলের কোনও নেতা নয়। তাহলে দিদিমণির এত রাগ হচ্ছে কেন? এটা তো খানিকটা ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি তো কলা খাইনি গোছের ব্যাপার হয়ে গেল!”

Comments are closed.