সোমবার, এপ্রিল ২২

ধর্মতলায় মঞ্চ, মোদী-মমতার মন্ত্রের লড়াই, ভাবুন তো!

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ধরুন, ধর্মতলায় প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছে। পেল্লাই মঞ্চ। সেই মঞ্চের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে মোদী, অন্য প্রান্তে দিদি। মোদী জপ করছেন গায়ত্রী মন্ত্র, দিদি বলছেন, “ইয়া দেবী সর্বভূতেসু ……”

মন্ত্রের লড়াই। সিনটা ভাবুন!

রামনবমীর পর থেকেই তিনি যে কর্মসূচিতে যান, সে দলীয় কর্মসূচি হোক বা প্রশাসনিক বৈঠক, বক্তৃতার একটা অংশে তিনি মন্ত্রোচ্চারণ করেন। নিদেন পক্ষে পাঁচ মিনিট। যার একটার সঙ্গে আর একটার কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের অনেক নেতাই বলেন, “দিদি আসলে বোঝাতে চান তিনি বিজেপি-র থেকেও বড় হিন্দু।” আর মঙ্গলবার তো ইন্টারন্যাশনাল মাড়োয়ারি ফেডারেশনের হোলি উৎসবে যোগ দিতে নজরুল মঞ্চে গিয়েছিলেন মমতা। সেখানেই তিনি মন্ত্রোচ্চারণের প্রতিযোগিতায় বসার জন্য নাম না করে মোদীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

তৃণমূলের অনেকেই মনে করছেন এ বার মাড়োয়ারি সমাজের মধ্যে একটা বড় অংশ হিন্দুত্বের প্রশ্নে বিজেপি-কে ভোট দিতে পারে। তাই সেই মঞ্চেই দিদি বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, হিন্দুত্বের মাপকাঠিতে তিনি কোনও অংশে কম যান না। পর্যবেক্ষকদের মতে, কলকাতার দুটো আসনই এ বার তৃণমূলের জন্য চ্যালেঞ্জিং। শহরের মোট ভোটারের প্রায় ৬২ শতাংশই অবাঙালি। তার উপর দক্ষিণ কলকাতায় এ বার সুব্রত বক্সীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীও নেই। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর মালা রায়কে লোকসভা ভোটে টিকিট দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। চোদ্দর ভোটে দেখা গিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরেই তৃণমূলের ঘুঁটি উলটে গিয়েছিল। তাই ভোটের আগে এই রকম একটা মঞ্চ পেয়ে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, তিনি হিন্দুত্বের ব্যাপারে ওঁদের থেকে কম যান না।

বাংলায় কত পুজো হয় এ দিন ফের একবার সে কথা উল্লেখ করেন মমতা । উপস্থিত মাড়োয়ারি সমাজের মানুষজনের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “আপনারা বলুন বাংলায় দুর্গা পুজো হয় কি হয় না? ঘরে ঘরে লক্ষ্মী পুজো হয় কি হয় না? নবরাত্রি, ছট পুজো হয় কি হয় না?” দিদির কথাতে ‘হ্যাঁ’ বলে সম্মতিও জানায় উপস্থিত জনতা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “দেখে আসুন দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে। স্কাইওয়াক করে দিয়েছি। আপনাদের ভাল লাগবে।” এরপরই মোদীর উদ্দেশে টিপ্পনির সুরে দিদি বলেন, “কিন্তু বারাণসীতে কিস্যু হয়নি।” শুধু দক্ষিণেশ্বর নয়। তারাপীঠ, পাথরচাপড়ি, কঙ্কালীতলা, তারকেশ্বর—সহ একাধিক হিন্দু তীর্থস্থানের কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, “সব জায়গা ঢেলে সাজানো হয়েছে। আর দিল্লি থেকে কেউ কেউ এসে এখানে বলছে কিস্যু হয়নি।”

আজ নতুন নয়। এর আগেও তিনি বিজেপি-র ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদের’ সমালোচনা করে বলেছেন, “আমি ওঁদের হিন্দুত্ব মানি না। আমি স্বামী বিবেকানন্দের হিন্দুত্বে বিশ্বাস করি।” সেই সুরেই এ দিন মমতা বলেন, “আমায় ওদের থেকে ধর্ম শিখতে হবে না।”

বিজেপি-র রথযাত্রা নিয়ে যখন বাংলার রাজনীতি সরগরম তখন গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রচ্ছন্নভাবে হিন্দু বিরোধিতার জিগির তুলে দিয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, জনমানসে যে তার প্রতিক্রিয়া পড়েছে তা বুঝতে পেরেছেন স্বয়ং মমতাও। তাই হয়তো এ দিনের অনুষ্ঠানে এ কথা বলতে হয়েছে তাঁকে। দিদি বারবার বলেছেন, “হিন্দুধর্ম হাজার হাজার হাজার বছরের পুরনো। বিজেপি তো এই সে দিন জন্মাল!”

মঙ্গলবার মমতা জানিয়েছেন তিনি দোল খেলবেন না। এত জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতেই রঙের উৎসবে নিজেকে রাঙাবেন না বলে জানিয়েছেন দিদি। তবে তিনি যে জওয়ানদের নিয়ে রাজনীতিকে ঘৃণা করেন ফের একবার সে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। দোলের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “রক্তের হোলি খেলবেন না। রঙের হোলি খেলুন।”

আরও পড়ুন

কোনও কটাক্ষ নয়, আদর করে ভোট চাইতে বললেন মুনমুন

Shares

Comments are closed.