রায়গঞ্জে করোনার আতঙ্কে চোরেরা! পাঁচ দিন খোলা পড়ে রইল ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকের সাইকেল, ছুঁয়েও দেখল না কেউ

সাইকেল চোরদের করোনা আতঙ্ক নিয়ে এখন হাসি-ঠাট্টা চলছে শহরজুড়ে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের চোরেরাও বোধহয় এখন করোনার আতঙ্কে ভুগছে। শহরের সুদর্শনপুর এলাকার লকডাউন ও করোনা নিয়ে চর্চার বিষয় এখন এটাই। টানা পাঁচ দিন ধরে খোলা সাইকেল পড়ে থাকলেও কেউ সেটি ছুঁয়েও দেখেনি। তাতেই চোরেদের করোনা আতঙ্ক নিয়ে সরস আলোচনা চলছে শহরজুড়ে।

    সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও লকডাউনের জেরে চায়ের দোকানে আড্ডা না জমছে না। পুলিশের ভয়ও আছে। তবে বাজারে হোক বা মুদির দোকানে – কাছাকাছি কাউকে চেনা দেখলে লোকে একটাই প্রশ্ন করছেন – “কী? চোরেদের করোনা আতঙ্কের কথা শুনেছেন তো?” উত্তরে সহাস্য জবাবও পাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও মিমের ছড়াছড়ি। এত কিছু হচ্ছে শিলিগুড়ি মোড়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে পড়ে থাকা একটি সাইকেলকে কেন্দ্র করে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন একই ভাবে ওই সাইকেলটা তাঁরা পড়ে থাকতে দেখছেন বেশ কয়েক দিন ধরে। খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন দিন পাঁচেক আগে ভিন রাজ্যে থেকে কয়েক জন শ্রমিক সাইকেল চেপে এসেছিলেন। পুলিশ তাঁদের কোয়ারেইন্টাইনে পাঠিয়ে দিয়েছে। নিজেদের সাইকেল নিয়ে যেতে চাননি ওই শ্রমিকদের এক জন। জাতীয় সড়কের ধারেই সেটিকে ফেলে রেখে যান। এলাকায় গুজব ছড়ায় সাইকেলে আসা শ্রমিকদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। তারপর থেকে কেউ আর সাহস করে সাইকেলটির পাশ মাড়াচ্ছেন না।

    শিলিগুড়ি মোড়ে একটু অসতর্ক হলে নিমেষে সেখান থেকে সাইকেল উধাও হয়ে যায় – লোকের অভিজ্ঞতা অন্তত সেকথাই বলছে। ইদানীং কালে রায়গঞ্জ শহরে দিনের আলোয় সাইকেল চুরির সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসছে। তা নিয়ে হইচইও হয়েছে। সেই রায়গঞ্জে কিনা খোলা সাইকেল পাঁচ দিন ধরে পড়ে!

    সাইকেলটি এখনও পড়ে রয়েছে একই ভাবে। চাইলে যে কেউ নিয়ে যেতে পারেন। চোরেরা তো নিতেই পারে বিনা বাধায়। কিন্তু করোনার আতঙ্কে আপাতত তারা সাইকেলের ধারকাছ মাড়াচ্ছে না। করোনা যে শরীরে বাসা বাঁধার আগে চোর ও সাধুর বিচার করে না সেকথা বিলক্ষণ জানে রায়গঞ্জের চোরেরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More