বললেই হবে! কালকে বিদ্যাসাগর কলেজের ওখানে তৃণমূলের কেউ ছিলই না: মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো-কে কেন্দ্র করে তুমুল অশান্তি হয়েছে কলকাতায়। আগুন জ্বলেছে রাজপথে। ভেঙেছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি। কিন্তু সেই ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টা কাটার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, গত কালকের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস ছিলই না।

    বুধবার বিকেলে দমদম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সৌগত রায়ের সমর্থনে আগরপাড়ায় জনসভা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই মঞ্চ থেকে দিদি বলেন, “আমার কাছে সমস্ত তথ্য আছে। ভিডিয়ো ফুটেজ আছে। কারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে সব পরিষ্কার। আর এখন বলছে তৃণমূল করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস কোথাও ছিলই না কালকে।” তাঁর কথায়, “ওরা মিছিল করলে আমরা ফিরেও তাকাই না। আমাদের প্রয়োজন নেই।”

    মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয় কলেজ স্ট্রিটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন ক্যাম্পাসের সদর দরজার সামনে। সেখানে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একদল ছেলে-মেয়ে কালো পতাকা এবং পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য জড়ো হয়েছিল। বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতরেও তৃণমূলের জমায়েত ছিল বলে অভিযোগ। যদিও মমতা এ দিন বলেন, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। সে তো অনেকেই দেখায়। আমিও যখন যাদবপুরে গিয়েছিলাম ওখানকার কিছু মাওবাদী ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। আমি তারপর দাবি মেনে নিয়ে ওদের আন্দোলন প্রত্যাহার করিয়েছিলাম।

    এ দিনের জনসভায় তৃণমূলের মঞ্চে দেখা যায় বিদ্যাসাগরের একটি বিরাট প্রতিকৃতিতে মালা পরানো। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “”বাংলার লোক হলে রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগরকে চিনবে না? আসলে বিজেপি বাইরে থেকে ভাড়াটে গুণ্ডা নিয়ে এসে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙিয়েছে।” এরপরই চ্যালেঞ্জের সুরে মমতা বলেন, “ওদের একটাই টার্গেট, বাংলার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে বহিরাগত সংস্কৃতিকে আমদানি করা। কিন্তু এটা আমরা হতে দেব না, দেব না, দেব না।”

    অমিত শাহের র‍্যালিকে বিঁধতে গিয়ে মমতা বলেন, “সব বিহার, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান থেকে লোক নিয়ে এসেছিল। কলকাতায় ওদের লোক নেই। তারপর ওই ডিজে বাজিয়ে দুমদুম করতে করতে গুণ্ডামি করেছে। কাউকে হনুমান সাজিয়েছে, কাউকে উচ্ছে সাজিয়েছে, কাউকে পটল সাজিয়েছে, কাউকে বেগুন সাজিয়ে মিছিল করেছে।” বুধবার সকালে দিল্লি থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে অমিত শাহ বলেছিলেন, “কালকে যে ধরনের হামলা হয়েছিল, তাতে সিআরপিএফ না থাকলে আমার বেঁচে ফেরা মুশকিল ছিল।” পাল্টা বিকেলে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “কে অমিত শা! যে ওর উপর হামলা করতে যাব! ওর থেকে আমার ব্লক প্রেসিডেন্ট অনেক দামি।” যদিও গতকাল তৃণমূলের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছিল তাঁদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, কালকে বিজেপি-র মিছিলে ওই ঘটনার জন্য দায় এড়াতে পারে না পুলিশ। কারণ কলকাতা বিশ্ববিদযালয় এবং বিদ্যাসাগর কলেজ, দু’ক্ষেত্রেই পুলিশি ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশ যদি আগেই জমায়েত হঠিয়ে দিত, তাহলে ওই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তৃণমূল কালকে ছিলই না, মমতার এই কথা শুনে এক বিজেপি নেতা বলেন, “দিদিমণি আগে তাও রেখে ঢেকে মিথ্যে কথা বলতেন, কিন্তু এখন একেবারে খুললামখুল্লা। সবাই দেখেছে তৃণমূল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুণ্ডাবাহিনী মজুত রেখে হামলার ছক করেছিল।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More