সোমবার, অক্টোবর ১৪

নিশীথ যেন কোচবিহারের রাজা, রাজবেশে সংসদে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনহাটার ভেটাগুড়ি থেকে পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হল। খুব বেশি সময় লাগেনি তাঁর। ক’মাস আগের তৃণমূলের ডাকসাইটে যুব নেতা এখন বিজেপি-র সাংসদ। সেই তিনিই, নিশীথ প্রামাণিক সোমবার সংসদের পয়লা দিনে গেলেন একেবারে কোচবিহারের রাজার বেশে। শপথ নেবেন কাল, মঙ্গলবার।

গোলাপি পাঞ্জাবি। মাথায় সাদা পাগড়ি। সেই পাগড়ির লম্বা অংশ নেমে এসেছে কাঁধ দিয়ে। মাথার উপর আবার দুধসাদা পালক। কোচবিহারের প্রথম রাজা নীপেন্দ্র নারায়ণের মতো লুক। নিশীথ নিজে কিছু না বললেও, অনেকেই দেখে বলছেন, রাজার ওই স্টাইল স্টেটমেন্টকেই তুলে ধরেছেন নিশীথ।

দিনহাটা থেকে উত্থান হলেও, ক্রমেই নিশীথ নিজের প্রভাব ছড়িয়েছিলেন গোটা কোচবিহার জেলায়। শীতলখুচি থেকে নাটাবাড়ি- সর্বত্র তাঁর দাপট। দলের যুব সংগঠনের সভাপতি পদে কখনও ছিলেন না নিশীথ। কিন্তু তিনিই ছিলেন শেষ কথা। কোচবিহারের অনেকেই বলেন, এর অন্যতম কারণ ছিল যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বাহিনীকে একা কুপোকাত করে দিয়েছিলেন নিশীথ। যুব তৃণমূলের নেতাদের দিয়ে দখল করিয়েছিলেন একের পর এক পঞ্চায়েত। টানা বেশ কয়েক বছর যুব তৃণমূলের ভয়ে জুজু হয়ে থাকত মাদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেও সেই কোন্দল থামাতে পারেননি।

সময় গড়িয়েছে। নিশীথকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। নিশীথ যোগ দেন বিজেপি-তে। তাঁকে প্রার্থীও করে দেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীরা। সাময়িক বিক্ষোভ হয়েছিল জেলায়। কিন্তু দিল্লি থেকে দিনহাটা পৌঁছতেই সব বিক্ষোভে জল পড়ে যায়। তারপর শুরু প্রচার। তৃণমূলের সঙ্গে একদম কাঁটায় কাঁটায় টক্কর। শেষ পর্যন্ত ২৩ মে বিকেলে গণনাকেন্দ্র থেকে ভিকট্রি চিহ্ন দেখিয়ে বের হন নিশীথ।

সবটা দেখে অনেকেই বলছেন, এই বেশ ওঁকেই মানায়।

Comments are closed.