‘দারুণ শাস্তি হয়েছে’, হায়দরাবাদ এনকাউন্টার নিয়ে দিদির উল্টো সুর অনুব্রতর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানকে তিনি খণ্ডন করেছেন, অতীতে এমন নজির নেই। দিদির কথাই তাঁর কথা। দিদি যা বলেন সেটাই তাঁর কাছে শাশ্বত। সেই তিনি বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল হায়দরাবাদ এনকাউন্টার নিয়ে দিদির উল্টো বক্তব্য রেখে ফেললেন। পরে আবার ঢোঁকও গিললেন।

    শনিবার বীরভূমের সাঁইথিয়ায় কর্মীসভা করতে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই সভা শেষ হওয়ার পর তাঁকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, হায়দরাবাদ এনকাউন্টার নিয়ে আপনার মত কী? জবাব যেন লেগেই ছিল কেষ্টবাবুর ঠোঁটের ডগায়। বলে দিলেন, “খুব ভাল শাস্তি হয়েছে। একদম উপযুক্ত শাস্তি!” এরপরই তাঁকে সাংবাদিকরা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এর বিরোধিতা করছেন! তখনই অস্বস্তিতে পড়ে যান অনুব্রতবাবু। বলেন, “এটা তো হায়দরাবাদের ব্যাপার। হায়দরাবাদ মানে অল ইন্ডিয়ার ব্যাপার। অল ইন্ডিয়ার ব্যাপারে যা হয় সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলেন। সেখানে আমার বলা সাজে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত মত বলেছেন। আমি আমার ব্যক্তিগত মত বললাম।”

    আরও পড়ুন: এনকাউন্টার করে মারাই কি তাহলে সঠিক পথ

    বিজেপি মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, “অনুব্রতবাবু যা বিশ্বাস করেন তাই বলেছেন। উনি যেমন তৃণমূল নেতা তেমন সামন্তপ্রভুও। দলীয় সভাতেই ওঁকে বলতে শোনা যায়, একে গাঁজা কেসে ঢুকিয়ে দে, ওকে সাইড করে দে। উনি চটজলদি বিচারেই বিশ্বাস করেন। তাই বলেছেন!”

    শুক্রবার রানি রাসমণি রোডে তৃণমূলের সংহতি দিবসের সমাবেশ ছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, “দ্রুত চার্জশিট পেশ করে আদালতে অভিযুক্তদের বিচার হওয়া দরকার। কোথাও আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হবে না। আদালতের মাধ্যমেই দোষীদের সাজা দেওয়া উচিত।” সেইসঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে ফাস্টট্র্যাক কোর্টের কথাও বলেছিলেন মমতা। বাংলার উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, এ রাজ্যে ৮৫টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি হয়েছে।

    এমনিতে এনকাউন্টারের পর থেকেই জনতা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একটা অংশের মত, সাইবারাবাদ পুলিশ সঠিক কাজ করেছে। চারজন বিকৃত মানসিকতার লোককে বাঁচিয়ে রাখার কোনও যুক্তিই নেই। অন্য অংশের মত অবশ্য একেবারে উল্টো। তাঁদের বক্তব্য, যে ভাবে এই এনকাউন্টার করা হয়েছে তা কোনও সভ্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার লক্ষণ নয়। এই রকম চলতে থাকলে তো বিচার ব্যবস্থা রাখারই কোনও প্রয়োজন নেই। সেলিব্রিটি থেকে সমাজের সব ক্ষেত্রই এই ইস্যুতে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে। সেই বিভাজন থেকে বাদ রইল না বাংলার শাসকদলও। দিদির ঠিক উল্টো কথা বললেন কেষ্ট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More