রাজ্যের নতুন কর্মসূচি ‘চলো গ্রামে’, রাত কাটাবেন জেলাশাসকও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির সরকারি সংস্করণ!

এবার জেলাশাসক থেকে প্রশাসনের কর্তারা যাবেন গ্রামে গ্রামে। শুনবেন মানুষের অভাব-অভিযোগ। যেগুলি তাৎক্ষণিক ভাবে সমাধান করা যায়, সরকারি আধিকারিকরা গ্রামের কোনও বাড়ির উঠোনে বসে সেই ব্যবস্থা করবেন। শুধু তাই নয়, জেলাশাসক থেকে সরকারি আমলারা রাত কাটাবেন গ্রামের কোনও একটি বাড়িতে। সারবেন রাতের আহারও। পরের দিন সকালে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তারপর ফিরবেন।

আরও পড়ুন: জ্বলছে অসম, অবরোধ ত্রিপুরায়, জারি কার্ফু, বন্ধ ইন্টারনেট, নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ উত্তর-পূর্ব

‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি ভাল সাড়া ফেলেছে বলে দাবি বাংলার শাসকদলের। ওই কর্মসূচিতে বিধায়ক-মন্ত্রীরা গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরেছেন। মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনেছেন। রাত্রিযাপনও করতে হয়েছে সেখানে। দেখা গিয়েছে হরিপালের প্রত্যন্ত গ্রামের কোনও এক প্রান্তিক চাষির বাড়ির দাওয়ায় বসে ভাত খাচ্ছেন বেচারাম মান্না কিংবা বাদুড়িয়ার কোনও এক গ্রামে ক্ষেতমজুরের বাড়িতে ডাল-রুটি-সবজি খাচ্ছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এবার সেটাকেই সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইল সরকার।

মাসখানেক আগেই নবান্নে বৈঠক করে রাজ্যের শীর্ষ আমলারা জেলাপ্রশাসনের আধিকারিকদের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সেটাই বাস্তবায়িত হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই বীরভূম জেলায় এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে হুগলিতে। শুরুতেই বলাগড় ব্লকে এই কর্মসূচি নিয়েছে হুগলি জেলা প্রশাসন।

বেশ কয়েকটি ধাপে হবে এই কর্মসূচি। প্রথমেই হবে গণশুনানি। যেখানে একটি জায়গায় গিয়ে বসবেন ডিএম-সহ সরকারিও আধিকারিকরা। সেখানে এসে গ্রামের মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা জানাবেন। যেগুলি তাৎক্ষণিক ভাবে সমাধান সম্ভব, সেগুলি ওখানে বসেই মেটানো হবে। আর যেগুলির জন্য সময় লাগবে, সেগুলি লিপিবদ্ধ করা হবে এবং সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমেই সরকারি প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার শিবির হবে। স্বাস্থ্যসাথী, কৃষিবন্ধুর মতো প্রকল্পগুলিতে এখনও যাঁরা নাম নথিভুক্ত করাননি, তাঁরা ওখানে নিজেদের নাম লেখাতে পারবেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, আমজনতার মধ্যে সরকারি আধিকারিকদের কাজ নিয়ে অনাস্থা রয়েছে। একের পর এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আপনাদের স্বভাব হচ্ছে মানুষকে ঘোরানো। যে কাজটা পাঁচ মিনিটে হয় সেটাকে পাঁচ মাস লাগান।” পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি আধিকারিকদের প্রতি আস্থা ফেরাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More