শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮

সিবিআইকে আটকাচ্ছে কেন, ভয় কীসের? নাম না করে মমতা, চন্দ্রবাবুকে খোঁচা মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে চিটফাণ্ড তদন্তের অগ্রগতি বিশেষ হল না কেন, সেই প্রশ্ন এখনও ঝুলছে! সে ব্যাপারে অবশ্য টুঁ শব্দও করলেন না তিনি। তবে দুর্নীতি দমনের প্রসঙ্গে শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রবাবু নায়ডুকে বড় রকমের খোঁচা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

লোকসভা ভোটের আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে শুক্রবার থেকে বিজেপি জাতীয় পরিষদের বৈঠক শুরু হয়েছে। ওই মঞ্চেই শনিবার তাঁর বক্তৃতায় মোদী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ সিবিআইকে রাজ্যে ঢুকতে দেবে না বলেছে। কিন্তু কেন দেবে না? কী কাণ্ড করেছে ওঁরা? কীসের জন্য ভয় পাচ্ছে? তা হলে কি লুকোনোর কিছু রয়েছে?”
সিবিআইয়ের মুখের উপর প্রথমে দরজাটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। তাঁর পরামর্শেই পরে একই পদক্ষেপ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে দিল্লি পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট আইন অনুযায়ী সিবিআইয়ের গঠন হয়েছিল। ওই আইন মোতাবেক বলা হয়েছে, সিবিআই কোনও রাজ্যের মন্ত্রী বা সরকারি আমলাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে চাইলে বা কাউকে জেরা করতে চাইলে একটা ‘সাধারণ অনুমতি’প্রয়োজন। সিবিআই-কে সেই অনুমতি বামফ্রন্ট জমানা থেকেই দেওয়া ছিল। বাকি রাজ্যগুলিও তাই করেছে। সেটাই দস্তুর। কিন্তু সেই অনুমতিই প্রথমে চন্দ্রবাবু প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্ন।

শনিবার সে ব্যাপারেই নাম না করে চন্দ্রবাবু ও মমতাকে খোঁচা দেন মোদী। সেই সঙ্গে এ ধরনের তদন্তের ব্যাপারে তিনি যে কতটা অকুতোভয় তা তুলে ধরতে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেন। মোদী বলেন, তিনি যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তাঁকে নাস্তানাবুদ করে রেখেছিল কংগ্রেস। দিল্লি থেকে কংগ্রেসের মন্ত্রীরা গুজরাতে গিয়ে বলতেন, খুব শিগগির মোদী জেলে যাবেন। বিধানসভার মধ্যেও কংগ্রেস নেতারা সে কথা বলতেন। এমনকী একবার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তথা এসআইটি-র গোয়েন্দারা তাঁকে ডেকে ৯ ঘন্টা জেরা করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বলেন, কই এতোকিছুর পরেও তো গুজরাতে সিবিআইয়ের প্রবেশ বন্ধ করিনি। কারণ, আমার লুকোনোর বা আড়াল করার কিছু ছিল না। এবং ছিল না বলেই তদন্তের পর তদন্ত করেও আমার কোনও অনিষ্ট করতে পারেনি কংগ্রেস। কিন্তু সেই সাহস বাংলা বা অন্ধ্রপ্রদেশ দেখাতে পারছে না কেন?

যদিও মোদীকে এক তরফা অভিযোগ তোলার সুযোগ দেয়নি তেলগু দেশম ও তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্ররা। তাঁরা বলেন, সিবিআই তদন্তের নামে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে মোদী সরকার। বিজেপি-র আসল উদ্দেশ্য সিবিআই, ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সি লেলিয়ে দিয়ে বিরোধীদের দুর্বল করে দেওয়া। সেই রাজনীতি বন্ধ করার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

তবে কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, “মোদীও যা মমতাও তাই। এঁরা দু’জনে উপরে উপরে ঝগড়া দেখায়। কিন্তু ভিতরে গলায় গলায় বন্ধু। দুর্নীতি দমনে যদি মোদী এতই আন্তরিক তা হলে চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত কেন কার্যত থমকে রয়েছে। গরিব মানুষের টাকা মেরেও কী ভাবে তৃণমূলের নেতারা বাইরে ঘুরে বেরাচ্ছে। ফলে মানুষকে এ ভাবে আর বোকা বানানো যাবে না। এঁরা দু’জনেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।”

Shares

Comments are closed.