দুর্গতি নাশে সবাই সংগঠিত হোন, বঙ্গ বিজেপির পুজো উদ্বোধনে নরেন্দ্র মোদী

৫৭৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিজেপি-র উদ্যোগে যে দুর্গাপুজো হচ্ছে, দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ষষ্ঠীর দুপুরে সেই পুজোর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই বক্তৃতায় ঠারেঠোরে একুশের ভোটের বার্তা দিয়ে দিলেন তিনি। বিজেপি নেতাকর্মী তথা বাংলার সাধারণ জনতার উদ্দেশে মোদী বলেন, “মহিষাসুরকে বধ করার জন্য মা দুর্গার একার শক্তিই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু তাও তিনি সমগ্র দেবকূলকে সংগঠিত করেছিলেন। দুর্গতি নাশে সকলে সংগঠিত হোন।”

কী দুর্গতি , কার জন্য দুর্গতি সেসব কিছুই বলেননি প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, বোঝার জন্য ইশারাটুকুই যথেষ্ট!

প্রায় আধ ঘণ্টার বক্তৃতায় বাংলার সংস্কৃতির রূপ, রস, বর্ণ এদিন তুলে ধরতে চাইলেন মোদী। একাধিক বাংলা কবিতার পঙক্তিও উদ্ধৃত করলেন বাংলা উচ্চারণে। সেই সঙ্গে বললেন, “বাংলা ভাষা এত মিষ্টি যা কল্পনা করা যায় না। আমার হয়তো উচ্চারণে কিছু ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু বাংলা উচ্চারণ করার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের তরফে প্রায়ই বলা হয়, বিজেপি মানেই বাঙালি বিরোধী। এদিন মোদী যেন তারই জবাব দিলেন। কার নাম করলেন না! রবীন্দ্রনাথ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র, শ্রী চৈতন্য থেকে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ, জগদীশ বোস-প্রফুল্লচন্দ্র থেকে মাতঙ্গিনী, নেতাজি। বাদ গেলেন না সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন এমনকি উত্তম-সুচিত্রাও। মোদীর মুখে শোনা গেল মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রাণ পুরুষ গুরুচাঁদ ঠাকুর, হরিচাঁদ ঠাকুর, পঞ্চানন বর্মার নামও। তাঁর কথায়, “শাম হো জায়েগি, পরন্তু নাম নেহি খতম হোগি।”

প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, “দুর্গাপুজো এলে গোটা দেশটাই বাংলা হয়ে যায়। গ্রাম বাংলা, শহর বাংলার রঙে মা দুর্গার ঝলক এক অন্য মাত্রা তৈরি করে। মোদীর কথায়, “বাংলার মানুষ মা দুর্গাকে ঘরের মেয়ের মতো দেখেন। বলেন , উমা এল ঘরে। এই মা-সন্তানের সম্পর্কের দর্শন সামাজিক চিন্তনের আধার। আমাদের সমস্ত মেয়েকে দুর্গা জ্ঞানে সম্মান করতে হবে।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, নারী শক্তির বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক প্রকল্প নিয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনা, গর্ভবতী মায়েদের জন্য পুষ্টিকরণ অভিযান, জনধন যোজনা, বেটি বাঁচাও-বেটি পড়াওয়ের মতো প্রকল্প সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক বেড়াজাল থেকে মুক্তি দিতে তিন তালাক প্রথার অবলুপ্তি ঘটানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বাংলায় বলা হয়, আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।  অর্থাৎ শ্রমিক, কৃষক-সহ সমস্ত মানুষ যাতে আত্মনির্ভর হতে পারেন তাঁর জন্য নিরবিচ্ছিন্ন কর্মসূচি চলছে।” প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনার মতো প্রকল্পে বাংলার কত জন সুবিধা পেয়েছেন তারও পরিসংখ্যান দেন মোদী। বাংলার বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে নরেন্দ্র মোদীর বার্তা—“প্রতিটি মানুষের কাছে যান। তাঁদের জাগ্রত করুন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More