দিদি আপনিই তো মহিলা, তিন তালাকের পক্ষে কেন: মোদী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলার মঞ্চ থেকে ফিরহাদ হাকিম, ইদ্রিস আলিরা বলেছিলেন আমরা তিন তালাক আইনের বিরোধিতা করব। কিন্তু এর মধ্যেই কেন্দ্র তিন তালাক বিল সংসদে পাশ করিয়ে আইন করে ফেলেছে। তার মধ্যে আবার কংগ্রেস বলতে শুরু করেছে, উনিশে ক্ষমতায় এলে তিন তালাক আইন তুলে নেবে। এ বার সেই ইস্যুতেই বিরোধী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    শুক্রবার ময়নাগুড়ির চূড়াভান্ডারের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহিলাদের অধিকার নিয়ে গলা ফাটানো কংগ্রেসের আসল রূপ বেরিয়ে গেছে। এখন বলছে তিন তালাক আইন তুলে নেবে।” শুধু কংগ্রেস নয়। বাংলায় এসে এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকেও আক্রমণ করেন মোদী। বলেন, “মমতাদিদি! আপনি তো একজন মহিলা। তাহলে আপনি কেন তিন তালাকের মতো বর্বর প্রথার পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন?”

    গতকালই অসমের শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ তথা সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব তিন তালাক নিয়ে মুখ খোলেন। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সন্তোষমোহন দেবের মেয়ে সুস্মিতা সংখ্যালঘুদের কনভেনশনে বলেন, “উনিশে কংগ্রেসই ক্ষমতায় আসছে। এসেই তিন তালাক আইন প্রত্যাহার করবে নতুন সরকার।”

    এমনিতে তিন তালাক নিয়ে তৃণমূলের একেক নেতা একেক রকম বলেন। কেউ বলেন, কেন্দ্রের করা তিন তালাক আইনের বিরোধিতা করবেন, আবার কেউ ধর্মীয় ব্যাপারে সরকারের নাক না গলানো উচিত বলেই মনে করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর প্রধান কারণ সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক। যা দিদির অন্যতম শক্তি। এমন একটা অবস্থানে থাকা যাতে এ কূল ও কূল দু’কূলই থাকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তিন তালাক ইস্যুকে হাতিয়ার করে দিদির ভোটেই থাবা বসাতে চাইলেন মোদী। কৌশলে বাংলার মুসলিম মহিলাদের কাছে নিজের ভাবমূর্তি তুলে ধরলেন তিনি। বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, দিল্লিতে কংগ্রেস আর বাংলায় তৃণমূল, দুই দলই মুখে মহিলাদের সমানাধিকার, সামাজিক ন্যায় বিচারের দাবিতে সোচ্চার হলেও, আসলে তারা এই জঘন্য প্রথার পক্ষেই।

    ময়নাগুড়িতে মোদীর বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর পরই নিউটাউনে বিশ্ববাংলা কনভেশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন তালাক প্রসঙ্গে দিদি বলেন, “আমি সবসময় মহিলাদের অধিকারের পক্ষে। কিন্তু এই ব্যাপারটা আমাদের সংসদীয় দল দেখছে। কিন্তু সব কিছুর একতা সিস্টেম আছে।”

    বাংলার শাসক দলের এক মুখপাত্রের কথায়, “যাঁর আমলে গোরক্ষকদের তাণ্ডবে দেশের মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত, সংখ্যালঘুরা প্রতিদিন আক্রান্ত, তাঁর মুখে এ সব বড় বড় বুলি ভণ্ডামো ছাড়া আর কিছু না।” তাঁর কথায়, “বাংলায় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কোনও জায়গা নেই। আর রাজ্যের সংখ্যালঘুরা জানেন, তাঁদের সামাজিক উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কী করেছে।”

    আরও পড়ুন-

    মমতা যতই ধর্ণা দিন, চিটফান্ডের পাই পয়সার হিসাব নেওয়া হবে, জলপাইগুড়িতে ঝাঁঝালো আক্রমণ মোদীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More