পুলওয়ামা: চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, স্মৃতিই সম্বল শহিদ সুদীপ বিশ্বাসের পরিবারের

নদিয়ার পলাশিপাড়ার হাঁসপুকুরিয়ার বসছে তিনটি আবক্ষ মূর্তি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে তাড়াতাড়িই আসবেন বলেছিলেন। কথা রেখেছিলেন। নদিয়ার পলাশিপাড়ার হাঁসপুকুরিয়ার বাড়িতে তিনি এসেছিলেন তবে কফিনবন্দি হয়ে। শহিদ সুদীপ বিশ্বাস – এক বছর আগে আজকের দিনে পুলওয়ামায় ফিদাঁয়ে হামলার অন্যতম শহিদ। সেই সময় সারা দেশ ফুঁসে উঠেছিল ক্ষোভে, ঘৃণায়।

বালাকোটে বায়ুসেনার হামলার পরে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল দেশ। হয়তো শান্তি পেয়েছিল শহিদের আত্মাও। তবে এই বদলা প্রলেপ দিতে পারেনি শহিদ সুদীপের মা মমতা বিশ্বাসের ক্ষতে। এক বছর ধরে প্রত্যেক দিন, প্রত্যেক রাত তিনি কেঁদেছেন ছেলের জন্য।

ছেলের স্মৃতি বুকে আঁকড়ে রাত কাটান মমতা বিশ্বাস। তাঁর বুকের ভিতরে এখনও দগদগে ঘা। এক বছর পরে আজ শহিদদের স্মরণ করছে দেশ, স্মরণ করছে শ্রদ্ধার সঙ্গে। বাড়ি, পাড়া ও ক্লাবে আবক্ষ মূর্তি বসেছে শহিদ সুদীপ বিশ্বাসের। পুত্রহারা মায়ের শোকে প্রলেপ দেওয়ার পক্ষে তা মোটেই যথেষ্ট নয়।

সকাল থেকে বার বার ঘুরেফিরে ছেলের ছবির সামনে আসছিলেন মমতা বিশ্বাস। গত একটা বছর জীবনের অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। জলজ্যান্ত ছেলেটা আর আসবে না কোনও দিন, ডাকবে না ‘মা’ বলে। গ্রামের মানুষের কাছে, দেশের মানুষের কাছে দেশমাতৃকার বীরসন্তান সুদীপ বিশ্বাস। কিন্তু মমতাদেবীর কাছে তিনি তো শুধুই সন্তান!

তাঁর তিনটি আবক্ষ মূর্তি বসেছে গ্রামে। ফাইবারের মূর্তি তিনটি বড় জীবন্ত। মূর্তি তৈরি করেছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী সুবীর পাল। ফাইবার গ্লাসের মূর্তিতে খুঁত একটাই, সেটা নিষ্প্রাণ। তাই তিন তিনটি মূর্তি পুত্রশোক ভোলাতে পারছে না মমতাদেবীর।

পুলওয়ামায় শহিদ সুদীপ বিশ্বাসের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘোষণার পরের দিনই বাড়িতে এসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে এখনও সেই চাকরি জোটেনি। শহিদের বোন ঝুমা একথা জানিয়েছেন। শহিদ সুদীপের বাড়িতে রয়েছেন বাবা সন্ন্যাসী বিশ্বাস, মা মমতা ও বোন ঝুমা।

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছে শহিদ সুদীপ বিশ্বাসের পরিবার। ব্যক্তিগত সাহায্য পেয়েছেন অনেকের থেকে। তাতে বাড়িঘরের কিছুটা উন্নতিও হয়েছে। তবে সেসব তো আর রোজ রোজ পাওয়া যায় না। তাই পরিবারের একজনের চাকরি নিতান্তই দরকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More