রাজ্যপালকে নিয়ে নবান্ন হঠাৎই নরম, বিধানসভায় বক্তৃতার আগেই ধনকড়ের জুটছে হেলিকপ্টারও

রাজভবনের প্রতি হঠাৎই বেশ নরম নবান্ন। এবং এতটাই যে এ বার শান্তিনিকেতনে যাওয়ার জন্য তাঁকে হেলিকপ্টার দিতেও রাজি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। এও দেখা যাচ্ছে, বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আগে এখন ঘনঘন ধনকড়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়-অমিত মিত্ররা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা থেকে চার-পাঁচশ কিলোমিটার উজিয়ে জেলায় অনুষ্ঠানে যাওয়া সহজ কথা নয়! রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় তাই এর আগে বহুবারই নবান্নের থেকে হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন। কিন্তু এ যাবৎ কখনওই পাননি। তা নিয়ে তাঁর অভিমান, অসন্তোষও কম নয়! উপরি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো রাজ্যের মন্ত্রীরা খোলাখুলিই জানাচ্ছিলেন, রাজ্যপালের কেন হেলিকপ্টার প্রয়োজন হল জানাতে হবে, জনগণের টাকা খোলামকুচি করার জন্য নয়!

    তারপর এখন হঠাৎ কী হল কে জানে! রাজভবনের প্রতি হঠাৎই বেশ নরম নবান্ন। এবং এতটাই যে এ বার শান্তিনিকেতনে যাওয়ার জন্য তাঁকে হেলিকপ্টার দিতেও রাজি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। এও দেখা যাচ্ছে, বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আগে এখন ঘনঘন ধনকড়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়-অমিত মিত্ররা।

    প্রসঙ্গত, হেলিকপ্টার নিয়ে রাজভবন-নবান্ন মন কষাকষি চলছে সেই নভেম্বর থেকে। নদিয়ার শান্তিপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য রাজ্যপাল হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন। কিন্তু নবান্ন নাকি রাজভবনের চিঠির উত্তরই দেয়নি। পরে ফারাক্কা ও ডোমকল সফরের জন্যও হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন ধনকড়। কিন্তু সে বারও একই রকম শীতল ছিল নবান্ন। উল্টে প্রকাশ্যে রাজ্যপালের সমালোচনায় নেমেছিলেন তৃণমূলের নেতারা।

    প্রশ্ন হল, এখন তা হলে কী এমন ঘটে গেল!

    বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। ১০ তারিখ সভায় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বক্তৃতা দিয়েই ৭ তারিখ শুরু হবে বাজেট অধিবেশন। এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা অনুযায়ী তার আগে রাজ্য মন্ত্রিসভায় রাজ্যপালের বক্তৃতার খসড়া পাশ হবে। তার পর সেটাই বিধানসভায় পড়বেন রাজ্যপাল।

    শাসক দলের শীর্ষ মন্ত্রীর কথায়, এতদিন এসবে ঝঞ্ঝাট ছিল না। সরকার যে বক্তৃতা লিখে দিত, রাজ্যপাল তাই পড়তেন। কিন্তু ইদানীং নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বাজেট অধিবেশনে সরকারের লিখে দেওয়া বক্তব্য পড়েছেন ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে পষ্টাপষ্টি বলেছেন, এটা তাঁর মত নয়। তাঁকে পড়তে হবে তাই পড়ছেন। ধনকড়ও এমন কিছু করে বসলে রাজ্য সরকারের জন্য অস্বস্তির বইকি।

    সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আমলার কথায়, সম্ভবত সেই কারণেই রবিবার রাজ্যপালের সঙ্গে এক প্রস্ত দেখা করেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পরে আবার আজ সোমবার সন্ধ্যায় অমিত মিত্র ও পার্থবাবু ফের রাজ্যপাল সকাশে যান। সরকারের তরফেও জানানো হয় যে বাজেট অধিবেশনের ব্যাপারে আলোচনার জন্যই তাঁরা রাজভবনে গিয়েছিলেন। আর এসবের মাঝেই এও জানা যায় যে, বাজেট অধিবেশনের আগের দিন অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যপাল যাচ্ছেন শান্তিনিকেতনে। তবে এ বার আর সড়ক পথে নয়। হেলিকপ্টারে। আকাশপথে।

    বিধানসভায় রাজ্যপালের বক্তৃতার সঙ্গে হেলিকপ্টারের যোগ—অবশ্য রাজনৈতিক স্তরের অনুমান মাত্র। বলাবাহুল্য তা প্রমাণ করতে পারবে না কেউই। তবে সব শুনে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, “আসলে বর্তমান সরকার তো দাবি করে সবেতেই তারা চারশ শতাংশ, পাঁচশ শতাংশ কাজ করে দিয়েছেন। সেই সব কথা এই রাজ্যপালকে দিয়ে পড়াতেই হয়তো সমস্যা হচ্ছে!”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More