শনিবার, অক্টোবর ১৯

বাংলায় একশ দিনের কাজে কি চুরি হচ্ছে? নজরদারি জন্য চুক্তিতে ইঞ্জিনিয়ার নিচ্ছে নবান্ন

রফিকুল জামাদার

বাংলায় একশ দিনের কাজে চুরি নিয়ে অভিযোগ কম নয়। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেন, একশ দিনের কাজে টাকা খরচে বাংলা এক নম্বরে। কিন্তু তাঁর দফতরে কান পাতলেই শোনা যায় অন্য কাহিনী। আবার উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বহু পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে স্থানীয় ভাবে এ ব্যাপারে অভিযোগও বিস্তর।

এই পরিস্থিতিতে একশ দিনের কাজে নজরদারির জন্য ঠিকায় ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চুক্তির ভিত্তিতে কিছু ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করা হবে। যাঁরা বিভিন্ন জেলায় একশ দিনের কাজ যোজনার আওতায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দেবেন।

কেন এ ভাবে নজরদারির প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে তা নবান্নের কর্তারা প্রকাশ্যে বলেননি। বিজ্ঞপ্তিতে শুধু বলা হয়েছে, কাজের গুণমান পরীক্ষা করার জন্য নজরদারি জরুরি।

কিন্তু ঘরোয়া আলোচনায় নবান্নের কর্তারা বলছেন, ওই ‘গুণমান’ কথাটার মধ্যেই সবটা ধরা রয়েছে। কোথাও যে কাজ হওয়ার কথা ছিল, তা নমঃ নমঃ করে সেরে টাকা লুঠ হয়েছে। কোথাও কাগজে কলমে কাজ হয়েছে মাত্র। বাস্তবে কিছুই হয়নি। শুধু তা নয়, একশ দিনের কাজ প্রকল্পে মজুরদের থেকেও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত গত কয়েক বছরে একশ দিনের কাজ প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। শুধু ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ৭৭৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। হিসাব মতো গত দশ বারো বছরে বাংলায় এই প্রকল্পে প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে উপর্যুপরি কেন্দ্রীয় সরকার।

কিন্তু গোড়া থেকেই প্রশ্ন ছিল, যাঁদের জন্য এই প্রকল্প তাঁদের কাছে এই টাকার সবটা পৌঁছচ্ছে কী? তা ছাড়া বাস্তবে কতটা কাজ হচ্ছে। সরাসরি যাতে মজুরদের কাছে টাকা পৌঁছয় সে জন্য মজুরদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আমলাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, এর পরেও ফাঁক ফোকর গলে বহু টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে।

তৃণমূলের এক নেতার কথায়, এ জন্য পঞ্চায়েতের এক শ্রেণীর জনপ্রতিনিধি ও কর্মী দায়ী বলে জেলায় জেলায় স্থানীয় ভাবে অভিযোগ রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন বুঝতে পারছেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্থানীয় ভাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হওয়ার এও একটা বড় কারণ। বলা যেতে পারে সে জন্য কাটমানি নেওয়া বন্ধ করতে ফরমান জারি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার নজরদারির ব্যবস্থা করে অন্তত রাজনৈতিক ভাবে এই বার্তা দেওয়া যাবে যে সরকার দুর্নীতি ও অনিয়ম রোখার চেষ্টা করছে।

Comments are closed.