কড়া লকডাউনের পথে রাজ্যের একাধিক জেলা, বিশেষ অঞ্চলে চলবে নজরদারি, জেলাশাসকদের সিদ্ধান্ত নিতে বলল নবান্ন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রফিকুল জামাদার

    বাংলার একাধিক জেলা বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে কড়া লকডাউনের পথে হাঁটতে চলেছে। ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহের মতো বেশ কিছু জেলা নবান্নে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল কিছু কিছু জায়গায় কড়া লকডাউনের। নবান্ন সেই প্রইস্তাবে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছে।

    গতকাল, সোমবারই জানা গিয়েছিল কলকাতায় বেশ কিছু এলাকায় কড়া লকডাউন জারি হতে চলেছে। প্রশাসনের অনেকের মতে, যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে এ ছাড়া বিকল্প কোনও পথ নেই। গতকাল রাত থেকেই বাগবাজার, শরৎ বোস রোর্ড, এলগিন রোড-সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছিল পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয় সেই সব জায়গায় মাইকপ্রচার। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্য কিচ্ছু খোলা যাবে না এই সমস্ত এলাকায়। অর্থাৎ শুরুতে যে ধাঁচে লকডাউন হয়েছিল সেই একই ধাঁচে লকডাউন করার পথে হাঁটছে প্রশাসন।

    নবান্ন সূত্রে খবর, গতকাল মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা, স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও কনফারেন্স করেছিলেন ছয় জেলার জেলাশাসকের সঙ্গে। তাতে ছিলেন দুই চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, মালদহ এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে রাজ্য সরকারের শীর্ষ দুই আমলা জেলাশাসকদের বলেন, যদি আপনারা মনে করেন কোনও এলাকায় কড়া লকডাউন করার প্রয়োজন রয়েছে তাহলে তা করতে পারেন। তবে কোন এলাকায় কতদিন লকডাউন করার পরিকল্পনা জেলা প্রশাসন করছে তার একটা প্রস্তাব নবান্নকে পাঠাতে হবে। এদিন সেই মতো মালদহ ও উত্তর ২৪ পরগনার প্রস্তাব আসে নবান্নে। তাতে সিলমোহর দিয়ে দেয় রাজ্য সরকার।

    ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতের পাশাপাশি বনগাঁ, বসিরহাট, বিধাননগর ও ব্যারাকপুরের মহকুমাশাসকদের কাছে এবং জেলা পুলিশ সুপার ও কমিশনারেটের আধিকারিকদের কাছে লিখিত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী। নির্দেশিকা মতো মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুলিশ বিভিন্ন দোকান বন্ধ করে দিয়েছে বিশেষ করে খাবারের দোকান, চায়ের দোকান এবং পান বিড়ি ও সিগারেটের দোকান।

    দোকান বন্ধ করার সময় পুলিশের তরফে জানানো হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁরা দোকানদারদের বুঝিয়ে সেগুলি বন্ধ করেছেন। দোকানদাররা অবশ্য প্রশাসনের সিদ্ধান্তে খুশি নন। তাঁদের কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন চলায় রুটিরুজি বন্ধ ছিল। সপ্তাহ খানেক হল আমরা দোকান খুলেছি। আবার যদি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে আমরা খাব কী!”

    বলা হয়েছে, অফিস থেকে কারখানা এবং যে কোনও শিল্পোৎপাদন ক্ষেত্র ২০ শতাংশ পর্যন্ত কর্মী নিয়ে চালু রাখা যেতে পারে। ব্যাঙ্ক, এটিএম, টেলিকম-সহ পেট্রোল পাম্প, দমকলের মতো বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে। পণ্যবাহী বিমান চলাচল বাদে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় স্থান সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঠিকাকর্মীদের দিয়ে নির্মাণকাজ চালু রাখা যেতে পারে তবে সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্থানীয় লোকজনকে দিয়েই কাজ করানো যাবে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে মাস্কের ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব কঠোর ভাবে বজায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    মালদহের সবথেকে খারাপ অবস্থা ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকায়। কালিয়াচকের পরিস্থিতিও ভাবাচ্ছে জেলা প্রশাসনকে। তাই এই তিন জায়গাতেই নতুন করে কড়া লকডাউন কার্যকর করার জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল নবান্নে। পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করে সেই প্রস্তাব রাজ্য প্রশাসন মেনে নিয়েছে। আই আগামীকাল থেকেই ফের মালদহ জেলার দুই পুরসভা এলাকা ও কালিয়াচকে লাগু হচ্ছে কড়া লকডাউন।

    তবে হুগলি জেলাপ্রশাসন জানিয়েছে, এক্ষুণি তারা লকডাউনের পথে হাঁটতে চায় না। মানুষকে সচেতন করতে বেশ কিছু কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে খবর। কিন্তু হাওড়াতেও বহু জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দার্জিলিংয়েও ছবিটা একই। বিশেষ করে শিলিগুড়ি শহরের জন্য কড়া ব্যবস্থার পথে হাঁটছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More