খাগড়াগড়: নতুন জঙ্গি মডিউলের খোঁজে মুর্শিদাবাদে নজরদারি এনআইএ ও এসটিএফের

সাজাপ্রাপ্তদের আট জনই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা, তাই নজর এই জেলায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝে কেটে গিয়েছে প্রায় পাঁচ বছর। বর্ধমানের খাগড়াগড় কাণ্ডের রায় বেরনোর পরেই যাবতীয় নজর ঘুরে যায় মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ বেলডাঙা, লালগোলা, নবগ্রাম, ডোমকলের দিকে। এখন নতুন ভাবে মাঠে নেমেছে লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই জেলায় নতুন কোনও জঙ্গি মডিউল তলায় তলায় সক্রিয় হচ্ছে কিনা সেকথা জানতে এখন তাঁরা মরিয়া। বিশেষ সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

    একাধিক নাশকতামূলক কাজের জন্য প্রাথমিক জায়গা হিসেবে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই জেলাকে জঙ্গিরা কেন বেছে নিয়েছে সেই হদিশ পেতেই তদন্তকারীরা এখন জোর চেষ্টা করছেন।

    ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর অষ্টমীর সকালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে মারা গিয়েছিল শাকিল আহমেদ। তার প্যান্টের পকেট থেকে যে সব কাগজ পাওয়া গিয়েছিল সেই সব কাগজ ও নথি পরীক্ষা করতেই এক এক করে জড়িয়ে যায় মুর্শিদাবাদের উত্তরের সামশেরগঞ্জ থেকে দক্ষিণের বেলডাঙ্গা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গার নাম।

    এখানেই শেষ নয়। ঘটনার জাল কত দূর বিস্তৃত তা জানতে জাতীয় তদন্তকারী দল এনআইএ তদন্ত শুরু করে। ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানে একের পর এক মিলতে থাকে বাংলাদেশের ‘নিও জেএমবি’ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হদিশ।

    লালগোলার মকিমনগরের খারিজি মাদ্রাসা থেকে শুরু করে বেলডাঙার বোরখা ঘর, ডোমকলের ঘোড়ামারার খারিজি মাদ্রাসা, বহরমপুর এমনকি নবগ্রামের নামও জড়িয়েছে। এনআইএ-এর জালে ধরা পড়েছে রঘুনাথগঞ্জের খোদারামপুরের মহম্মদ রেজাউল করিম ওরফে আনোয়ার। ধরা পড়েছে সামশেরগঞ্জের নামো-চাঁচণ্ডের আব্দুল ওয়াহাব মোমিন, ডোমকলের বক্সিপুরের নুরুল হক মণ্ডল। এনআইএ সূত্রে খবর, লালগোলার মকিমনগরে ধৃত মোফাজ্জুলের সূত্র ধরে খাগড়াগড়ের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে চলা বেআইনি কার্যকলাপের হদিশ মিলেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের চোখকে ফাঁকি দিতেই বেলডাঙার জনবহুল ও ব্যস্ততম বড়ুয়া মোড়ের বোরখাঘর দোকানের আড়ালে খাগড়াগড় পরিকল্পনা নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছিল শাকিল আহমেদ ও হাতকাটা নাসিরুল্লা। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়ায় তা ফাঁস হয়ে যায়।

    ওই বিস্ফোরণেই মৃত্যু হয়েছিল শাকিল আহমেদের। পালাতে পারেনি খাগড়াগড় বিস্ফোরণে জড়িত দুই মহিলাও। তাদের মধ্যে রয়েছে নবগ্রামের তালগড়িয়ার মেয়ে আলিমা বিবি। মোট সাজাপ্রাপ্ত উনিশ জনের  মধ্যে আট জনই মুর্শিদাবাদ জেলার। এটাই নতুন করে ভাবাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে।

    জেলার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক বলেন, “একটা খাগড়াগড় বাংলায় নাশকতার চেনা ছকই বদলে দিয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এখন সর্বদাই রয়েছে এই মুর্শিদাবাদ জেলা।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More