মুর্শিদাবাদে ফড়েদের দৌরাত্ম্য ও তোলাবাজির অভিযোগ, বাজার কোথাও আগুন কোথাও দাম পাচ্ছেন না চাষিরা

রবিবার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক হরিপরপুরে থানার মাঠে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যে মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে ফড়েদের নিয়ে। হরিহরপাড়া বাজারে যেখানে কেজিপ্রতি ঢেঁড়সের দাম চার টাকার বেশি পাচ্ছেন না কৃষকরা সেখানে বহরমপুরে সেই ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। অভিযোগ, ফড়েরা ‘বাইরের’ ব্যবসায়ীদের থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা চাইছে বলে অভিযোগ।

    শনিবার হাটে না বসে তার বাইরে পাইকাররা চাটাই ও থলে পেতে বসেন। তাঁরা কেজিপ্রতি চার টাকার বেশি দামে ঢেঁড়স বিক্রি করতে পারেননি। বাইরের কোনও ব্যবসায়ীকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না শুনে চলে আসেন হরিহরপাড়ার বিডিও পূর্ণেন্দু সান্যাল। সঙ্গে আসে পুলিশও। পুলিশের গাড়ি যতক্ষণ ছিল ততক্ষণ ফড়েরা সমস্যা তৈরি করেনি তবে পুলিশ চলে যেতেই ফের তারা বাইরের ব্যবসায়ীদের বাধা দেয় বলে অভিযোগ। তাদের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে বলে হরিহরপাড়া থানায় জানানো হয়। তাঁরা বলেন যে ইউনিয়নে চাঁদা দেওয়ার নাম করে বাস্তবে তাঁদের থেকে তোলা আদায় করা হচ্ছে।

    বিডিও সব ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেন। ব্যবসায়ীরা তাঁকে জানান যে ফড়েদের দমন করতে না পারলে সমস্যা মিটবে না। কারণ পুলিশ চলে গেলে আবার তারা স্বরূপ ধারণ করবে।

    ঠিক হয়েছে কাল রবিবার থানার মাঠে এনিয়ে আলোচনা হবে। গত বুধবার চাল নিয়ে অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে থানার মাঠে আলোচনার ভিত্তিতে। অভিযোগ উঠেছিল যে ২৫ কেজির বস্তার উপরে লেখা দামের চেয়ে বস্তাপিছু ১০০ টাকা বাড়তি নিচ্ছে পাইকাররা। দোকানিদের থেকে এই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ জানিয়ে দেয় যে গাড়িভাড়া ছাড়া বাড়তি দাম নেওয়া যাবে না।

    পাইকাররা তাতে রাজি হলেও তাঁরা অভিযোগ করেন যে চালকলের মালিকরাই তাঁদের বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। এই অভিযোগের কথা ও মিটিংয়ের বিস্তারিত বিষয় হরিহরপাড়া থানার ওসি রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার অজিত সিং যাদবকে। পুলিশ সুপার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে।

    জেলায় এখনও আলু ও পেঁয়াজের দর ঠিকই আছে তবে ডিমের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তিন টাকার বদলে এখন একটি ডিম ছ’টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লকডাউনের আগে যেখানে এক কেজি মুরগির মাংসের দাম ছিল ৬০ টাকা এখন তা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়ে গেছে।

    লোকের মধ্যে সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যাতে পুলিশ লাঠিচার্জ না করে। এখন পুলিশ কাউকে বুঝিয়ে বললে কাজ হচ্ছে না। সূত্রের খবর এর ফলে পুলিশ মহলে হতাশা দেখা যাচ্ছে। লোকের মধ্যে গাছাড়া ভাব দেখা দিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More