মুর্শিদাবাদের ‘বুড়িমা’, দেবী দুর্গা এখানে চতুর্ভুজা, একই মন্দিরে পুজো হয় তিনটি মূর্তি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার পাশালা গ্রাম। দেবী এখানে পূজিত হন খানিক ভিন্ন রূপে। একই মন্দিরে তিনটি বেদীতে পুজো হয় মা দুর্গার। ‘বুড়িমা’ নামে পূজিত হন মা। এখানে দেবী দুর্গা দশভুজার বদলে চতুর্ভুজা। মায়ের বাঁদিকে থাকেন গণেশ এবং লক্ষ্মী। আর ডানদিকে থাকেন কার্তিক এবং সরস্বতী। কথিত আছে জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র রায় চৌধুরী ১৯০৬ খ্রীষ্টাব্দে এই মন্দির সংস্কার করে পুজো পরিচালনার দায়িত্ব নেন। 

ষষ্ঠী থেকেই বলিদান শুরু হয় এখানে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন তিনটি প্রতিমাই একসঙ্গে দোলায় করে মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। আটজন ব্রাক্ষণ সন্তান কাঁধে করে বয়ে নিয়ে আসেন দোলা। দশমীর দিন একইসঙ্গে বিসর্জন হয় তিনটি প্রতিমা। নিরঞ্জনের কাজ সারা হয় স্থানীয় পুকুরে। নির্ঘণ্ট মেনে তিনটি প্রতিমার একসঙ্গেই পুজো হয়। আরতি থেকে পুজোর বাকি আচার-অনুষ্ঠান, তিনটি প্রতিমার ক্ষেত্রে একই সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করা হয়। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই পুজো। দুটি প্রতিমায় থাকে সাদা ডাকের সাজ। আর একটি প্রতিমায় সোনালি সাজ। 

১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ। কথিত আছে নবাবের নামেই নামকরণ হয় মুর্শিদাবাদের। এখানকার একটি পান্থশালায় এসে অবসরে বিশ্রাম নিতেন নবাব। স্থানীয়রা বলেন, এই পান্থশালা থেকেই গ্রামের নাম হয়েছে পাশালা। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র এই পান্থশালার পাশেই থাকতেন কাত্যায়নী নামের এক বিধবা বৃদ্ধা। তাঁর কুটিরের পাশেই ছিল বুড়িমার মন্দির। তখন মা দুর্গা রূপে পূজিত হতেন এই বুড়িমাই। পরবর্তীকালে ওই মন্দিরেই তিনভাগে বিভক্ত রাখা হয় এই বুড়িমার মূর্তি। এখনও সারাবছর প্রাচীন বুড়িমার মূর্তিই পূজিত হন মন্দিরে। 

অন্যান্য সব জায়গার তুলনায় এখানকার দুর্গামূর্তি একেবারেই আলাদা। দশভুজার বদলে দেবী এখানে চতুর্ভুজা। এমনকি লক্ষ্মী-গণেশ, কার্তিক-সরস্বতীর অবস্থানেও রয়েছে বদল। নির্দিষ্ট সাজে সাজানো হয় তিনটি মূর্তি। তবে প্রতিটি মূর্তিই এখানে একচালার। চারদিন মহাসমারোহে পূজিত হন মা দুর্গা। গ্রামবাসীরা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এই পুজোর টানে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More