বৃহস্পতিবার, মে ২৩

শুভ্রাংশুর গলায় অভিষেকের সুর, ‘বীজপুরে দীনেশদাকে সব চেয়ে বেশি লিড দেব’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখন জাঁকিয়ে শীত কলকাতায়। ২০১৭-র নভেম্বর মাস। নয়াদিল্লির বিজেপি সদর দফতরে মুকুল রায় গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল বঙ্গ রাজনীতিতে। কী করবেন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু? বীজপুরের তৃণমূল বিধায়কও কি বাবার পথেই হাঁটবেন? সে দিনও যা বলেছিলেন, ২০১৯-এর লোকসভার আগে একই অবস্থান শুভ্রাংশু রায়ের। অর্জুন সিং-এর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সন্ধে বেলাই কাঁচড়াপাড়ার বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিলেন, “আমার একটাই নেত্রী। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, “দল যদি দায়িত্ব দেয়, ব্যারাকপুর লোকসভায় দীনেশ দাকে সব চেয়ে বেশি লিড দেবে বীজপুর।”

এ দিনই যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “দীনেশ ত্রিবেদী দু’লক্ষ ভোটে জিতবেন। একটাও ভোট কম কম হবে না।” শুভ্রাংশুও সেই সুরেই বলেন, “দু’লক্ষ ভোটে জিতবেন দীনেশদা।” সেই সঙ্গে বীজপুরের বিধায়ক বলেন, “অর্জুনবাবু গেছে যাক। তাঁর ছেলে এখনও তৃণমূলের কাউন্সিলর। আমাদের সবাই মিলে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে।” এ কথা বলতে গিয়েই হাপুন (শুভ্রাংশুর ডাক নাম) বলেন, “আমার বাবা অন্য দলে যাওয়ার পর, আমাকে,আমার স্ত্রীকে, আমার মাকে, এমনকী আমার ছ’বছরের মেয়েকে গালিগালাজ শুনতে হয়েছিল। কিন্তু কেউ যেন অর্জুনবাবুর স্ত্রীকে কটূক্তি না করেন। নারীজাতির সম্মান সবার আগে।”

এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকের প্রতিটা বাক্যে বুঝিয়ে দেন, বাবার সঙ্গে ‘মতাদর্শের পার্থক্য’ থাকলেও, আসলে তিনি বাবার মতোই পোড় খাওয়া রাজনীতিকই। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন নেত্রী থাকবেন, ততদিন আমি তৃণমূলেই থাকব।” এরপরে নিজের থেকেই বলেন, “আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন,আমি কি তাহলে অভিষেককে নেতা হিসেবে মানব না? নেত্রী যাকে নেতা করে পাঠাবেন আমি তাঁকেই মানব। যদি বীজপুরে দিলীপ ঘোষ বা সুজন চক্রবর্তীকে পাঠান, আমি তাঁদের হয়েই নামব।”

Shares

Comments are closed.