শনিবার, জুলাই ২০

বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ মনীষী মমতা, কটাক্ষ মুকুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরোসরকারি অনুষ্ঠান বা প্রকল্পে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ নতুন নয়। কিন্তু এ বার সেই তালিকায় নাম লেখালেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান তথা অধুনা বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

মঙ্গলবার দুপুরে হেয়ার স্কুল প্রাঙ্গনে নতুন বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মঞ্চ থেকেও ১৪ মে-র ঘটনা নিয়ে বিজেপি-র দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। বিকেলের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মমতাকে তোপ দাগতে গিয়ে মুকুল বলেন, “বিদ্যাসাগর শুধু বাংলার নন, সারা ভারতের মনীষী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু তাঁকে বাংলার বলে অপমান করছেন।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী বলেন, “মমতার চেয়ে বড় মনীষী আর কে আছেন! বিদ্যাসাগরের থেকে মমতার ছবি বড়। চলচ্চিত্র উৎসবে সত্যজিৎ রায়ের থেকে মমতার ছবি বড়। পাঠ্য পুস্তকে মমতার কবিতা পড়ানো হয়। উনি সবার উপরে। তাহার উপরে কেউ নাই।”

এ দিন মুকুলবাবু বলেন, “৭০ সালে নকশালবাড়ি আন্দোলনের সময়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল। তারপর সেই মূর্তি যিনি পুনরায় প্রতিস্থাপন করেছিলেন তাঁর নাম ডাঃ পার্থ সেনগুপ্ত। আজকের অনুষ্ঠানে তিনি ব্রাত্য। ডাকাই হয়নি তাঁকে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্থবাবুর থেকেও বড় সমাজ সংগঠক!”

গতবার কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের সময়ে নন্দন চত্বরে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন পরিচালক অনীক দত্ত। বলেছিলেন, “ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সব সময়ে তাঁদেরই ছবি থাকে, যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এখানে শুধু ওঁর ছবি।” মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করলেও বুঝতে অসুবিধে হয়নি কার কথা বলছেন ‘ভুতের ভবিষ্যৎ’-এর পরিচালক। ভরা সেমিনারে এই মন্তব্য করেছিলেন অনীক। তারপর অনেক সহকর্মী তাঁকে বলেছিলেন, ‘এরপর তোমায় ভাত না খেয়ে থাকতে হবে। কাজ পাবে না।’ জবাবে হাসতে হাসতে অনীক বলেছিলেন, ‘ভাত না পেলে রুটি খেয়ে থাকব।’

যদিও মুকুলবাবুর এই কটাক্ষের জবাবে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “মুকুল রায় এখন যে দল করেন, সেই দলটাকে গোটা দেশের লোক কাট আউট পার্টি বলে। ওঁর মুখে এ সব কথা মানায় না।” 

Comments are closed.