শুক্রবার, আগস্ট ২৩

ববির মন্ত্রক চলে যাচ্ছিল, আমি বাঁচিয়েছিলাম, টালিগঞ্জ কাণ্ডে পুরমন্ত্রীকে তোপ মুকুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টালিগঞ্জ থানায় ঢুকে পুলিশ পেটানোর ঘটনায় যাদের নাম জড়িয়েছে, তাদের সঙ্গে নাকি বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের যোগ রয়েছে, মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা তোপ দাগলেন মুকুল। বললেন, “ববি কল্পনার জাল বুনে এ সব কথা বলছেন। ওঁর মন্ত্রক চলে যাচ্ছিল। আমি বাঁচিয়েছিলাম।”

একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুলবাবুর কথায়, “হরিমোহন ঘোষ কলেজে যে দিন গুলি খেয়ে পুলিশ কনস্টেবল তাপস চৌধুরীর মৃত্যু হল, তারপর ববির দফতর চলে যাচ্ছিল। আমি ওঁর পাশে দাঁড়িয়ে বাঁচিয়েছিলাম।” প্রসঙ্গত ২০১২ সালের ওই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন রাজ্যের বাইরে। তখন গার্ডেনরিচের হরিমোহন ঘোষ কলেজের ছাত্র সংসদ দখল নিয়ে ব্যপক গণ্ডগোল হয়। চলে গোলাগুলি। মৃত্যু হয় তাপস চৌধুরীর। গার্ডেনরিচ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বিধানসভার মধ্যে পড়ে।

এখানেই থামেননি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। বন্দরের বিধায়ককে আক্রমণ শানানোর সঙ্গে সঙ্গে তোপ দাগেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। বলেন। “আসলে যা ঘটছে, তা থেকে পরিষ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যর্থ। ববিদের উচিত তাঁকে গিয়ে বলা, দিদি তুমি এ বার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকটা ছেড়ে দাও।”

রবিবার রাত ১১টা নাগাদ নাকা চেকিং চলছিল টালিগঞ্জের মেনকা সিনেমা হলের সামনে। সেখানেই মত্ত অবস্থায় রণজয় হালদার নামের এক যুবককে পাকড়াও করে পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই আরোহী। তারপরেই শুরু হয় গণ্ডগোল। পুলিশের অভিযোগ, রণজয়কে আটকানোর পরেই তিনি কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। ফোন করে ছেলে ডাকেন। মুহূর্তেই প্রায় জনা চল্লিশ লোক জড়ো হয়ে যায় মেনকা সিনেমা হলের সামনে। অবস্থা বেগতিক দেখে রনজয়কে নিয়ে টালিগঞ্জ থানায় চলে যান ওই পুলিশকর্মী।

পুলিশের দাবি, এরপর থানার বাইরে চলে আসেন প্রায় ১০০ লোক। আচমকাই কয়েকজন ঢুকে পড়ে থানায়। কয়েকজন ওসির ঘরে ঢুকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। বাকিরা চড়াও হয় পুলিশকর্মীদের উপর। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এক কনস্টেবলকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে। এমনকী মহিলা কনস্টেবলদের পোশাক ছেঁড়ারও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে রণজয়কে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ওই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পুলিশের গুটিয়ে যাওয়ায় চটে যান নগরপাল অনুজ শর্মাও। দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Comments are closed.