রবিবার, আগস্ট ১৮

মুকুল-সব্যসাচী বৈঠক, প্রশ্নের মুখে ববি বললেন, ‘শুনছি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, তার বাইরে জানি না’

  • 90
  •  
  •  
    90
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সন্ধ্যায় বিধানগরের মেয়র তথা রাজারহাটের তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে মুকুল রায়ের বৈঠকের পর পরই আন্দোলিত হয়ে গিয়েছে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। ঘুরে ফিরে প্রশ্ন একটাই, দলের এই দাবাং নেতা কি এ বার বিজেপি-তে যোগ দেবেন? এবং অতি স্বাভাবিক কারণেই এ ব্যাপারে প্রশ্নের মুখে পড়লেন কলকাতার মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

তৃণমূল তথা রাজনীতিতে এটা ওপেন সিক্রেট যে ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হলেন সব্যসাচী। এমনকি সম্প্রতি ত্রিপুরা নির্বাচনের সময় সব্যসাচীকে নিয়ে একটি অডিও টেপ যখন বাজারে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল, তখন সব্যসাচীর পক্ষ নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দরবার করেছিলেন ফিরহাদ তথা ববি হাকিম। সম্ভবত সে কারণেই এ দিন সাংবাদিকরাও সব্যসাচী-মুকুল বৈঠক নিয়ে বেছে বেছে প্রশ্ন করেন, ববিকেই।

জবাবে ববি বলেন, “ওঁরা তো বলছে, ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে দেখা করেছেন। এর বাইরে কিছু জানি না।” কলকাতার মেয়রের কথায়, “বলতে লজ্জা লাগছে, বিজেপি নাকি সর্বভারতীয় দল। এমন ওদের দৈনদশা যে বাংলায় নেতৃত্বই নেই। ভিক্ষের ঝুলি নিয়ে ঘুরছে, হ্যাগো আমাদের প্রার্থী হবে?” ফিরহার এও বলেন, আমি সমাজসেবা করব বলে, বাংলায় দুম করে এমপি হওয়া যায় না। আগে থেকে সমাজসেবা করতে হয়, দল করতে গেলে আদর্শে বিশ্বাস করতে হয়। এ ভাবেই নেতা তৈরি হয় বাংলায়।

তবে সূত্রের খবর হল, শুক্রবার রাতে সব্যসাচী-মুকুল বৈঠকের পর পরই নাকি যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ববি। একটি সূত্রের মতে, ববি অভিষেককেও জানিয়েছেন, সব্যসাচী-মুকুল যোগাযোগের ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই।

তৃণমূলের এক নেতার কথায়, দলের মধ্যে সব নেতার সবার সঙ্গে বন্ধু সম্পর্ক থাকে না। সবার সঙ্গে সবার ‘ফ্রিকোয়েন্সি ম্যাচও’ করে না। তাই প্রত্যেকেরই কয়েক জনের সঙ্গে বিশেষ ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তেমনই তৃণমূলে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠতা যে রয়েছে সে ব্যাপারে তৃণমূলের মধ্যে একটা সাধারণ ধারনা রয়েছে। তাতেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে পুরমন্ত্রীকে।

বাস্তব হল, মুকুলবাবু দল ছাড়ার পরেও সব্যসাচী যে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তা হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সব্যসাচীকে বিধাননগর পুরসভার মেয়র পদে রেখে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, অনেকের মতে সব্যসাচীর বহুবিধ উপযোগিতা রয়েছে। বিধাননগর, নিউটাউন, সল্টলেকে তার প্রভাব সুবিদিত। এমনকি ভাঙড়ে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যার সময়েও রাজনৈতিক অপারেশনের সময় সব্যসাচীর উপরেই ভরসা করেছিল দল। সে জন্য গতকালের ঘটনার পর থেকে তৃণমূলের একাংশ বিচলিত।

এ দিকে ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য নিয়ে এদিন পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতেও ছাড়েননি বিজেপি নেতারা। দলের এক মুখপাত্র বলেন, তৃণমূল এতটাই নির্লজ্জ যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও মিথ্যা বলে। মুনমুন সেন, তাপস পাল, সন্ধ্যা রায় থেকে শুরু করে অন্তত দু’ডজন সাংসদ-বিধায়ক রয়েছেন, যাঁদের অনেকেই প্যারাশুটে করে তৃণমূলে নেমেছেন। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলের আবার আদর্শ কী? যে দল অর্থ ও পদের লোভ দেখিয়ে অথবা মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে নির্বিচারে কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি থেকে নেতা নিয়ে দল ভারী করে, তাদের পার্টিতে কোনও আদর্শ থাকতেই পারে না। বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিই খারাপ করে দিয়েছে ওরা।

Comments are closed.