মঙ্গলবার, জুন ২৫

#Breaking: কমিশন দফতরে মেঝেতে বসে মুকুলদের ধর্না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবকে অপসারনের দাবিতে তাঁর অফিসের মেঝেতেই ধর্নায় বসে পড়ল মুকুল রায়ের নেতৃত্বে বিজেপি প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার লোকসভার নির্বাচনের প্রথম দফায় বাংলায় ভোট হয়েছে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার আসনে। তার পর সন্ধ্যাতেই জেলা শাসকের দফতরের সামনে ধর্নায় বসে পড়েছিলেন কোচবিহারের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর অভিযোগ ছিল, যে সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল না, সেখানে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে অবাধে ছাপ্পা দিয়েছে তৃণমূল। রিপলের দাবিও জানিয়েছিলেন নিশীথ।

সেই একই দাবিতে শুক্রবার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক আরিজ আফতাবের দফতরে গিয়ে ধর্না দেন মুকুল রায়রা। তাঁদের মূল দাবি, ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ ও প্রশাসনের উপর মহল থেকে তৃণমূলের ‘পেটোয়া’ অফিসারদের না সরানো হচ্ছে, ততক্ষণ বাংলায় নিরপেক্ষ ও অবাধ ভোট করানো সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে হবে। এ দিন বিজেপি-র পক্ষ থেকে যে ব্যানার নিয়ে যাওয়া হয় কমিশন দফতরে, তাতে আরিজ আফতাবকে ‘তৃণমূলের দালাল’ বলে তো দাগা হয়েছে। এর আগেও কমিশন নিযুক্ত বাংলার বিশেষ পর্যবেক্ষক কেকে শর্মা যখন কলকাতায় আসেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মুকুল রায় বলেছিলেন, “আরিজ আফতাবের সামনে আপনাকে কিছু বল্ব না। উনি সরে গেলে তবেই বলব।” এরপর আরিজকে সরিয়ে দিয়েই মুকুলের কথা শোনেন বিশেষ পর্যবেক্ষক।

বৃহস্পতিবারই বাংলায় আরও ২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার তা আরও ২৬ কোম্পানি বাড়ানো হয়েছে। মোট ১৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আপাতত পাঠানো হয়েছে বাংলায়। ১৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট হবে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জ আসনে। বিজেপি-র দাবি সেখানে সব বুথে কেন্দ্রীয়বাহিনী দিতে গেলে ১৩৪ কোম্পানিও যথেষ্ট নয়। তা আরও বাড়াতে হবে। এবং গেরুয়া শিবিরের সার কথা এই যে, আরিজ আফতাব যতক্ষণ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের চেয়ারে থাকবেন, ততক্ষণ বাংলায় সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট সম্ভব নয়।

প্রথম দফার ভোট দেখার পর রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই বক্তব্য ছিল, পঞ্চায়েতের সময় যে হিংসা, হানাহানির ছবি উঠে এসেছিল বাংলার ভোটে, সেই তুলনায় কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের ভোট হয়েছে মোটের উপর শান্তিপূর্ণই। পঞ্চায়েতের সময় শুধু কোচবিহারেই তিনটি পুলিশের জিপ জ্বলে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি-র অন্যতম কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহাও কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নিশীথ প্রামাণিক নিজের জয়ের ব্যাপারে গ্যারান্টি দিয়েও বলেছিলেন, যে মানুষ ভোট দিতে পারেননি, আমরা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার দাবি জানাচ্ছি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পরের দফার নির্বাচনগুলির জন্য কমিশনের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করল বিজেপি। আজকের ধর্না সেটারই একটা কৌশল। যাতে কেন্দ্রীয়বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো যায়। বিজেপি চাইছে, মানুষ নিজের ভোট নিজে দিক। সেটা যদি কমিশন করতে পারে তাহলেই তাদের অর্ধেক কাজ হয়ে যাবে।

এর আগে মুকুল রায়ই কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে নরেন্দ্র মোদীর জনসভা থেকে ওই জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তর বিরুদ্ধে তৃণমূলকে সাহায্য করার অভিযোগ তুলেছিলেন। বাম, কংগ্রেস নেতারাও অভিযোগ জানিয়েছিলেন এসপি-র বিরুদ্ধে। ভোটের  ৪৮ ঘণ্টা আগে কমিশন বদল করে দেয় পুলিশ সুপার। নবান্নের নির্দেশে ডেপুটেশনে বিহারে পাঠিয়ে দেওয়া পুলিশ আধিকারিক অমিত কুমার সিংকে কোচবিহারের এসপি করে নিয়ে আসে কমিশন। এ নিয়ে তৃণমূল ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু বিজেপি-র টার্গেট লাগাতার কমিশনের উপর চাপ তৈরি করে যাওয়া। যাতে প্রশাসনিক স্তরে আরও বদল করে কমিশন।

Comments are closed.