জেলে বসে জেলকর্তার স্কুলকে সাজানোর সুপারিশ করেছিলেন কুণাল, মাথা তুলল উনিশে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলে থাকার সময়ে হাজারো বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। আদালতে হাজির হলে প্রিজন ভ্যানের টিন বাজিয়ে, হা রে রে রে ধ্বনি তুলে তাঁর গলাকে ঢেকে দিত পুলিশ। সেই তিনিই, তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষের জেলে বসে সিলমোহর দেওয়া প্রকল্প মাথা তুলল উনিশে। এবং সেই প্রকল্প কুণাল ছাড়পত্র দিয়েছিলেন এক জেল কর্তার অনুরোধেই।

    ঘটনাটা কী?

    সারদা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কুণালকে যখন বিধাননগর পুলিশ গ্রেফতার করে, তখন তিনি সাংসদ। তাঁর দাবি, তিনি চেয়েছিলেন জেলের অন্ধকার থেকেই সাংসদ তহবিলের অর্থ খরচ করে প্রকল্পগুলিকে আলো দিতে। কুণালের অভিযোগ, সেটাকে সোজা রাস্তায় করতে দেওয়া হয়নি। নাম না করলেও, কুণালের অভিযোগ যে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের দিকে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।

    এরপরই জেলের ভিতর অনশন শুরু করেন কুণাল। অনশন ভাঙাতে তাঁর বৃদ্ধা মা-কে জেলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেটা ২০১৫ সালের দুর্গাপুজোর চতুর্থী। তবু অনশন তোলেননি একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা কুণাল। ৩৯ দিন চলে অনশন। কার্যত বাধ্য হয়েই জেল থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে সইসাবুদ করার অনুমতি দেয় জেল কর্তৃপক্ষ। তারপরও বাইরের কাজে বাধা। কুণাল আবেদন করেন হাইকোর্টে। আদালত নির্দেশ দেয় সাংসদ তহবিলের টাকা খরচে কোনও বাধার প্রাচীর রাখা যাবে না।

    দ্য ওয়াল-কে কুণাল বলেন, “ওই সময়েই জেলের হেড ওয়ার্ডেন অমিত মণ্ডল আমায় বলেছিলেন, এই লড়াই যদি সফল হয় তাহলে তাঁর গ্রামের স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে যেন কিছু টাকা দেন।” জেলের ওই কর্তা নদিয়ার শান্তিপুরের বাসিন্দা। বিবেকানন্দ নগর বিবেকানন্দ হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। কিন্তু ওই স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ ছিল না। ১৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন কুণাল। সেই প্রকল্প মাথা তুলে দাঁড়াল। এই শিক্ষাবর্ষ থেকে ওই স্কুলে শুরু হয়েছে সায়েন্স বিভাগ।

    চিকিৎসক ধর্মঘটের সময়ে অভিযোগ উঠেছিল, কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। ওই সময়েই কুণাল ছুটে যান হাসপাতালে। বলেন, “পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর ছিল না বলে শিশু মৃত্যু হয়েছে। অথচ এই হাসপাতালকেই আমি সাংসদ তহবিলের টাকা দিয়েছিলাম। খরচ না করে পাঠিয়ে দিয়েছে।”

    তবে জেলে বসে সিলমোহর দেওয়া বিবেকানন্দ স্কুলের উন্নয়ন বাস্তবায়িত হওয়ার পর তৃপ্তির হাসি হাসছেন কুণাল। হাসছে শান্তিপুরও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More