বুধবার, অক্টোবর ১৬

মদ্যপ যুবককে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার মা ও পুলিশ দাদা

  • 23
  •  
  •  
    23
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : ফালাকাটা স্টেশনের সামনে মারুতি ভ্যানের মধ্যে রাখা একটা বাক্স। দেখে সন্দেহ হয় আরপিএফ-এর। খুলতেই দেখা যায়, ভেতরে রয়েছে একটা মৃতদেহ। খবর দেওয়া হয় ফালাকাটা থানায়। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, ওই যুবকের নাম বরুণ রায় ( ২৬ )। বাড়ি মাদারিহাট থানার পশ্চিম খয়েরবাড়ি গ্রামে। ওই যুবকের খুনের অভিযোগে শনিবার রাতে তাঁরই মা ও দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতেরা খুনের কথা স্বীকার করেছে বলেই জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবারই উদ্ধার হয় ওই দেহ। দেহ দেখেই পুলিশ বুঝতে পারে, বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। তাঁর পরিচয় জানতে পেরে বাড়িতে যান পুলিশ কর্মীরা। সেখানে তাঁর মা ও দাদা দু’জনেই জানান, মদ্যপ বরুণের হাত থেকে নিস্তার পেতেই তাঁকে খুন করেছেন তাঁরা। শুক্রবার রাতে ঘটেছে এই ঘটনা।

আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠি বলেছেন, “আমরা দু’জনকেই গ্রেফতার করেছি। যুবকের মা বলছেন, তিনি খুন করেছেন। আবার তাঁর দাদা বলছেন, মা নয়, তিনি খুন করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনই এর বেশি কিছু বলা যাবে না।”

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই যুবকের দাদা অরুণ নিজে পুলিশ কর্মী। রায়গঞ্জে রাজ্য পুলিশের চার নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্মী তিনি। অরুণ জানিয়েছেন, ভাই প্রতিদিন মদ খেয়ে এসে বাড়িতে অশান্তি করত। তাই তাঁর হাত থেকে নিস্তার পেতে শুক্রবার ঘরের দরজার কাঠের ডাসা দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে খুন করেন তিনি। তারপর দেহ বাক্সর মধ্যে ভরে স্টেশনের সামনে মারুতি ভ্যানে রেখে আসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, “মদ্যপ ভাইয়ের অত্যাচারে আমরা পরিবারের সকলে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিলাম। তাই তাকে আমিই মেরে ফেলেছি। এর জন্য আমার কোনও অনুতাপ নেই। তবে আমি আইনের লোক। আইন আমাকে যে শাস্তি দেবে আমি তা মাথা পেতে নেব।”

অন্যদিকে যুবকের মা ধৌলি রায় জানিয়েছেন, অরুণ নয়, তিনিই পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন ছোট ছেলেকে। পুলিশের অনুমান, পুলিশে কর্মরত বড় ছেলেকে বাঁচাতেই নিজের ঘাড়ে খুনের দায় নিচ্ছেন মা। আপাতত দু’জনকেই জেরা করা হবে। প্রকৃত খুনি কি একজন, না দু’জনেই তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Comments are closed.