বৃহস্পতিবার, জুন ২০

কোনও কটাক্ষ নয়, আদর করে ভোট চাইতে বললেন মুনমুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতবারের সাংসদকে এ বার হারা আসন পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দিয়েছেন দিদি। বাঁকুড়া থেকে এনে দাঁড় করিয়েছেন আসানসোলে। ‘অপারেশন বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ করতে গেলে এই আসন এ বার জিততেই হবে। মঙ্গলবারের কর্মিসভায় আসানসোলের প্রার্থী মুনমুন সেন ওরফে শ্রীমতী দেববর্মা দলীয় কর্মীদের স্নেহভরে পরামর্শ দিলেন, “কাউকে টিজ করবেন না। আদর করে ভোট চান।”

একটি আঙুল তুলে ভোট চাওয়ার কথা বলতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে মঙ্গলবারের জামুড়িয়ার কর্মীসভায় জড়ো হওয়া সমর্থকরা। কর্মীদের উজ্জিবীত করতে মুনমুন বলেন, “হার থেকে কী ভাবে জেতার জায়গায় যাওয়া যায়, সেটা তো মমতাই আমাদের শিখিয়েছেন। একদিন আমাদের মমতা একা ছিলেন। আর আজকে মমতার পাশে আমরা সবাই।”

জামুড়িয়ার কর্মিসভায় মুনমুন

৬৮ বছর বয়সেও তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্ট আঠেরোর যৌবনকে উদ্বেলিত করে। বেশ কয়েক দিন হলো আসানসোলে প্রচার শুরু করেছেন সুচিত্রা-কন্যা। দেখা যাচ্ছে দিনের বেলা প্রচারে বেরোলে তাঁর পোশাকের এক রকম রঙ, সন্ধের প্রচারে অন্য রকম। সোমবার যেমন আসানসোল শহরে একটি কর্মিসভা করার পর তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা দফতরে জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক, কর্পোরেশনের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির পাশে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুনমুন। সেখানে তাঁকে দেখা যায় গাঢ় নীলচে সবুজ রঙের সিল্কের শাড়ি আর থ্রি কোয়ার্টার হাতা ব্লাউজ। মঙ্গলবার সকালের কর্মিসভায় শ্রীমতীকে দেখা গেল হালকা পেস্তা রঙের সুতির শাড়ি এবং ম্যাচিং স্লিভলেস ব্লাউজে। বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “গরম কালে দিনের বেলা হাল্কা রঙের পোশাক পরাই বিজ্ঞানসম্মত।”

রবিবারের রোড শোতে

এমনিতেই হারা আসন। তাই টেনশনও রয়েছে তাঁর। প্রচারে বেরিয়ে ঘেমে নেয়ে একাকার হতে হচ্ছে। রবিবার বিকেলের রোড শো-তে দেখা যায় কপালের ঘাম মুছতে গিয়ে লাল টিপটাই লেপ্টে গিয়েছে কপালে। সে দিকে অবশ্য হুঁশ ছিল না মুনমুনের। কারণ নতুন কেন্দ্রে এখন বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছনোটাই পাখির চোখ।

এ দিন জামুড়িয়ার কর্মীসভায় দলীয় কর্মীদের মুনমুন বলেন, “একা একা ভোট চাইতে যাবেন না। দশ জন মিলে এক সঙ্গে যান। জোট বেঁধে।” আসানসোলে বিজেপি এ বার বাবুল সুপ্রিয়কেই যে প্রার্থী করবে তা এক রকম নিশ্চিত। ফলে গায়ক বনাম নায়িকার লড়াই। বাবুল যেমন আগেই বলেছিলেন, “রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। মুনমুনের সঙ্গে দেখা হলে আমি ওঁর সঙ্গে কফি খাব।” এ দিন মুনমুনও একই রকম সৌজন্যের বার্তা দিয়ে বলেন, “ভোট ভোটের জায়গায়। তার আগে আমরা সবাই মানুষ। আমরা যেন কোনও ঝগড়াঝাটি মারামারি না করি!”

দুই প্রার্থীর সৌজন্য থাকলেও, আসানসোলের ভোটের হাওয়ায় সৌজন্য থাকবে তো? ভোট অশান্তি মুক্ত হবে তো? চোখ থাকবে সে দিকেই।

Comments are closed.