বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

সংখ্যালঘুদের নিয়ে অন্তত পাকিস্তানের ভাষণ মানায় না, ইমরানের ইয়র্কারে কাইফের ওভারবাউন্ডারি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইয়র্কার ফেলেছিলেন ইমরান খান। সেই বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দিলেন মহম্মদ কাইফ।

নাহ! ভারত-পাকিস্তানের ভেটারেন্স খেলোয়াড়দের কোনও প্রীতি ম্যাচ নয়। ভারতের সংখ্যালঘুদের নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে উড়িয়ে পাল্টা দিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন এই তারকা।

কয়েকদিন আগেই নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্যের রেশ টেনে লাহোরের একটি অনুষ্ঠান থেকে ইমরান বলেছিলেন, “ভারতের সংখ্যালঘুদের দাবি, তাঁরা উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা পান না। আমি মোদী সরকারকে দেখাতে চাই, কী ভাবে একটি দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উপযুক্ত নাগরিকের মর্যাদা দেওয়া যায়।” জিন্নাকে টেনে ক্রিকেটার প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “মহম্মদ আলি জিন্না যেমন চেয়েছিলেন তেমনটাই হয়েছে।  ‘নতুন পাকিস্তান’-এ সব ধর্মের নাগরিককে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।” কী ভাবে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আচরণ করতে হয়, তা তিনি মোদীকে শিখিয়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এ দিন ইমরানের মন্তব্যের জবাব দিলেন কাইফ। টুইট করে লেখেন, “দেশভাগের সময় পাকিস্তানে ২০ শতাংশ মানুষ ছিলেন যাঁরা সংখ্যালঘু। আর এখন সংখ্যাটা এসে দাঁড়িয়েছে ২ শতাংশে। পাশাপাশি ভারতবর্ষে ঠিক উল্টোটা ঘটেছে। স্বাধীনতার পর থেকে এদেশে সংখ্যালঘু মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। এই ব্যাপারে অন্তত পাকিস্তানের অন্য দেশকে ভাষণ দেওয়া মানায় না!”

উত্তরপ্রদেশের বুলন্দসহরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছিলেন, এ দেশে এখন তাঁর নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা হয়! বর্ষীয়ান এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘‘আমার রীতিমতো দুশ্চিন্তা হয় যে আমার সন্তানদের ঘিরে ধরে উন্মত্ত জনতা যদি প্রশ্ন করে, তোমরা হিন্দু না মুসলিম, ওরা কোনও উত্তরই দিতে পারবে না। কারণ আমরা (নাসির ও তাঁর স্ত্রী রত্না পাঠক) সচেতন ভাবেই ওদের কোনও ধর্মীয় শিক্ষা দিইনি।’’

গো হত্যা নিয়ে পুলিশ অফিসার সুবোধকুমার সিং হত্যার পর থেকেই উত্তপ্ত দেশের রাজনীতি। নাম জড়িয়েছে বজরং দল এবং বিজেপি-র যুব মোর্চার এক নেতার। এরপর নাসিরের মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। ইমরানের মন্তব্যের চব্বিশ ঘণ্টা কাটার আগেই জবাব দিয়েছিলেন নাসির। বলেছিলেন, “মিস্টার খানের উচিত নিজের দেশ নিয়ে নজর মাথা ঘামানো। আমাদের ৭০ বছরের গণতন্ত্র। আমরা জানি কী ভাবে কী করতে হয়। এ ব্যাপারে ওঁর মন না দিলেও চলবে।” একই সুরে ইমরানকে তোপ দাগলেন কাইফও।

Shares

Comments are closed.