শুক্রবার, আগস্ট ২৩

বাংলায় বিএসএফ-এর হেফাজতে ২ হাজার গোরু, কী ভবিষ্যৎ! জানে না মোদী সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গোমাতা, গোরক্ষক, গো-হত্যা…..এই কথাগুলি গত কয়েক বছরে ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতারা বারবার গো-রক্ষার কথা বলে থাকেন। গো-রক্ষার নামে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বর্ডার সিকিওরিটি ফোর্সের ( বিএসএফ ) কাছে রয়েছে ২০০০ গোরু। কিন্তু দেখভালের অভাবে প্রত্যেকদিন মারা যাচ্ছে তারা। সে দিকে কারও হেলদোল নেই। কীভাবে এদের বাঁচানো যাবে তা নিয়ে কোনও পথ বের করতে পারছে না মোদী সরকার।

বিএসএফ সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে ১ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হওয়ার হাত থেকে ২৫ হাজার ২৯৪টি গোরুকে বাঁচায় বিএসএফ। অর্থাৎ, প্রতি মাসে প্রায় ২,৮০০ গোরু আটক করেছে তারা। তার মধ্যে ৬,৬৪৮টি গোরু নিয়ে যায় দুটি এনজিও। ৭,৪৪৫টি গোরু দিয়ে দেওয়া হয় স্থানীয় গ্রামে। বাকি গোরু বিএসএফ জওয়ানদের কাছেই থাকে। কিন্তু ইতিমধ্যেই দেখভালের অভাবে মারা গিয়েছে অনেক গোরু। এই মুহূর্তে বিএসএফ-এর হেফাজতে রয়েছে ২০০০ গোরু। কিন্তু তাদের নিয়ে কী করবে, তা ভেবেই পাচ্ছে না তারা।

বিএসএফ সূত্রে খবর, এই গোরু দেখভাল করার জন্য যে পরিমাণ টাকার দরকার তা তাদের কাছে নেই। দিল্লিতে আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে গ্রামে যে গোরু দিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ফের বেশ কিছু গোরু পাচার হয়ে যাচ্ছে। বেচারা জন্তুগুলোও কষ্টের মধ্যে রয়েছে। কোনওরকমে তাদের দেখভাল করা হচ্ছে। কিন্তু খাবার, ওষুধের অভাবে প্রায় রোজই কিছু গোরু মারা যাচ্ছে।

কিন্তু কেন এই সমস্যা? কেন গোরুগুলোর কোনও গতি হচ্ছে না?

এর প্রধান সমস্যা হচ্ছে পিসিএ ( প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস ) আইন। ২০১৮ সালের আগে সীমান্তে যে সব গোরু বা গবাদি পশু ধরা হতো, সেগুলো কাস্টমস আইন অনুসারে নিলাম করে দেওয়া হতো। কিন্তু তাতে দেখা যায়, বেশ কিছু খদ্দের নিলামে গোরু কিনে ফের তার মাংস বিক্রি করছে। এর ফলে পিসিএ আইনের ফলে এই নিয়ম বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, গোরু নিলামের কোনও নিয়ম আর বর্তমানে নেই। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বিএসএফ-কে।

কাস্টমস দফতরও গোরু নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারে। কিন্তু সেটা তখনই যখন বিএসএফ গোরুর সঙ্গে পাচারকারীদেরও ধরে তাদের হাতে তুলে দেবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ধরা পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেই গোরু ফেলে পালিয়ে যায় পাচারকারীরা। ফলে গোরু তো উদ্ধার হয়, কিন্তু পাচারকারী ধরা না পড়ায় তা কাস্টমস-এর হাতেও তুলে দেওয়া যায় না। নিজেদের কাছেই রাখতে হয় বিএসএফকে।

বিএসএফ সূত্রে খবর, এই সংখ্যক গোরুর দেখভালের জন্য প্রতি মাসে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকার দরকার হয়। অথচ তাদের হাতে টাকা নেই। ফলে প্রতিদিন গোরু মারা যাচ্ছে।

এই সমস্যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “এটা সত্যিই খুব বড় সমস্যা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলেই বিষয়টা এত জটিল হয়েছে। অনেক গোরু তো আবার পাচারকারীদের কাছেই ফেরত যাচ্ছে। আমি এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। এই সমস্যা সমাধানের কোনও উপায় বের করতেই হবে।”

এই বিষয় নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, “বিজেপি সবসময় গোরক্ষার কথা বলে। অথচ এত গোরু মারা যাচ্ছে, তাদের কোনও হেলদোল নেই। ১০ মাসের উপর হয়ে গেল নিলাম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর সরকার কোনও সমাধান বের করতে পারেনি। যদি কেন্দ্র এর জন্য রাজ্যকে আলাদা টাকা দেয়, তাহলে আমরাই এই গোরুর দেখভাল করতে পারি।”

Comments are closed.