মঙ্গলবার, জুন ২৫

সামনেই লঙ্কাকাণ্ড, তারপরই নাকি রামরাজত্ব! কলকাতায় রাম নবমীর মিছিলে মোদী-কোবিন্দের ছবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোর্ডিংয়ে পিঠ ঢেকে গেছে টেম্পোর। আর সেই হোর্ডিয়ে রামচন্দ্র ও হনুমানের ছবি দিয়ে বড় হরফে স্লোগান লেখা, ‘সামনেই লঙ্কাকাণ্ড, তার পরই রামরাজত্ব’। অন্য ট্যাবলোর হোর্ডিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ছবি লাগানো। তাতে আবার লেখা, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি রামভক্ত। আমরা গর্বিত।’
রাম নবমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে গত কয়েক বছর ধরেই নানান কাণ্ড কারখানা চলছে বাংলায়। কখনও সেই শোভাযাত্রায় শিশু-কিশোরের হাতে অস্ত্র ঝলসে উঠছে। কখনও বা দেখা গিয়েছে, প্রতিযোগিতা মূলক রাজনীতির ফাঁদে পা দিয়ে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ তৃণমূলও রামাবলী গলায় জড়িয়ে মিছিলে পা বাড়িয়েছে।

রামনবমীর শোভাযাত্রা এ বারও রাজনীতির উর্ধ্বে রইল না, তা স্পষ্ট হয়ে গেল ট্যাবলোর ছবিতেও। সেই শোভাযাত্রায় আবার পা মেলালেন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনের সচিব রাহুল সিংহরা।
শনিবার উত্তর কলকাতার হরিনাথ দে স্ট্রিটে সকাল থেকে সাজো সাজো রব। রামনবমীর মিছিলের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ট্যাবলো। তারই একেকটিতে নানান স্লোগান লেখা। প্রসঙ্গত, গোটা কলকাতায় ষোলটির বেশি মিছিল হবে বলে আগেই জানিয়েছিল বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ডাকে। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র এই মিছিল হবে বলে তারা জানিয়েছে।

তবে সেই মিছিলে মোদী-কোবিন্দের ছবি স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ক তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে সোজা সাপ্টা উত্তর দিয়েছেন উত্তর কলকাতার বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, “ভারত মানেই রাম। এটাই সংস্কৃতি। ১৩০ কোটি ভারতবাসী সকলের মনেই রাম বিরাজ করছেন।” তাঁর এও বক্তব্য, “ধর্ম ও রাজনীতি পারস্পরিক সহাবস্থান ভারতীয় সংস্কৃতিতে গোড়া থেকেই রয়েছে। একটি ছাড়া অপরটি পূর্ণ হয় না।”

যদিও পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সব গোল গোল কথা অর্থহীন। এ বার রাম নবমী পড়েছে ভোটের মাঝে। তাই ধর্মীয় মেরুকরণের সবরকম চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। লঙ্কাকাণ্ড বলতে হয়তো লোকসভা ভোটকেই বোঝাতে চাইছে ওঁরা। এবং এও চাইছেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে সংখ্যাগুরুদের একাংশের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে রব উঠেছে, তার পূর্ণ সুবিধা নিতে।

গেরুয়া শিবিরের সেই উগ্র অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথাতেও। শনিবার তাঁকে দেখা যায় তির, ধনুক নিয়ে রামনবমী উদযাপন করছেন। কিন্তু অস্ত্র নিয়ে মিছিল করার ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে দিলীপবাবু বলেন, “আমরা এটা করব। যাদের অসুবিধে হচ্ছে তারা ভাবনা বদল করুক।”
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিজেপি-র এই রাজনীতিতে তৃণমূলও কিছুটা হলেও চাপে পড়েছে। রবিবার কলকাতায় রামনবমীর মিছিলের আয়োজন করেছে তারাও। তা ছাড়া ইদানীং প্রায় প্রতিটি জনসভায় মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদিও পাল্টা বোঝাতে চাইছেন, তিনিও কম বড় হিন্দু নন।

Comments are closed.