শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

মুষলধারায় শহর ভিজতে এখনও দেরি, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতেই আপাতত স্বস্তি খুঁজতে হবে দক্ষিণবঙ্গবাসীকে

  • 49
  •  
  •  
    49
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকাশে ঘন কালো মেঘের হদিশ পাওয়া গেলেও সে ভাবে বৃষ্টির দেখা নেই দক্ষিণবঙ্গে। আপাতত হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই ভিজবে শহর এবং শহরতলি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ৩ অগস্ট পর্যন্ত কেবল বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিই হবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। এর ফলে তাপমাত্রারও বিশেষ হেরফের হবে না। বরং পারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়বে আর্দ্রতাও। ফলে ভ্যাপসা গরম থেকে এখনই রেহাই নেই দক্ষিণবঙ্গবাসীর।

হাওয়া অফিসে আগেই জানিয়েছিল ৪ অগস্ট বিকেলের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। এবং ৫ অগস্ট সোমবার কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সবই নির্ভর করবে নিম্নচাপের উপর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, আগামী ৪ অগস্ট উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিম্নচাপ তৈরি হলে তার হাত ধরেই ফের দক্ষিণবঙ্গে আসবে বর্ষা।৫ এবং ৬ তারিখে উপকূলের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ থেকে ৮ অগস্টের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। তার আগে তেমন বৃষ্টির আশা নেই।

সঞ্জীববাবু আরও জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি স্বাভাবিক পরিমাণে হলেও, দক্ষিণবঙ্গে জুন-জুলাই, দু’মাসেই যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। তবে বর্ষার মরশুমে দ্বিতীয় ভাগে স্বাভাবিক ভাবে বৃষ্টি হবে, তেমনটাই আশা করছে আবহাওয়া দফতর। এমনিতেই দক্ষিণবঙ্গে এ বার বর্ষা এসেছে দেরিতে। ৮ জুনের বদলে ২১ জুন। আর সে ভাবে জোরদার হয়েও বর্ষা প্রবেশ করেনি দক্ষিণবঙ্গে। তবে এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে তা মধ্যপ্রদেশের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে। এই ঘূর্ণাবর্ত এখন কিছুটা পশ্চিমে সরে গেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে হাওয়া সেই ঘূর্ণাবর্তের দিকে যাওয়ায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। কোথাও কোথাও জোরে বৃষ্টি হলেও তার সময়সীমা খুবই কম।

আবহবিদরা জানিয়েছেন, ৪ তারিখের পর প্রাথমিক ভাবে উপকূলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি হলেও, পরের দিকে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। ৫ তারিখ থেকে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে। এবং যাঁরা এর মধ্যেই সমুদ্রে গিয়েছেন, তাঁদের ৪ তারিখের মধ্যে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। শুক্রবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৪ শতাংশ। শনিবার তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রির আশপাশেই থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

তবে এই নিম্নচাপ তৈরি না হওয়ার আগে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই দক্ষিণবঙ্গে। বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হতে পারে বটে। তবে তার ফলে ঘাটতির পরিমাণ কমবে না। সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে দক্ষিণবঙ্গে সব মিলিয়ে ৪৮ শতাংশেরও বেশি ঘাটতি রয়েছে। ধান চাষের জন্য যে পরিমাণ বৃষ্টির প্রয়োজন তা হয়নি। শুধুমাত্র কলকাতাতেই ঘাটতি রয়েছে ৫৮ শতাংশ। তাই ভরসা এখন নিম্নচাপেই। ৪ তারিখ নিম্নচাপ তৈরি হলে, তারপর থেকে কয়েকদিন ফের স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গ, তেমনটাই আশা আবহবিদদের।

Comments are closed.