বুধবার, জুলাই ১৭

আমরাও ভুল করেছি, কাউন্সিলরদের সভায় স্বীকার করলেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটে কাকে টিকিট দেওয়া হবে, তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যে একাধিক ভুল করেছে, তা হাটের মাঝে স্বীকার করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকালই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন নোয়াপড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং-এর ভগ্নিপতি সুনীল সিং। ২০১৭ সালে তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ বসুর মৃত্যুর পর উপনির্বাচন হয় নোয়াপাড়ায়। তৃণমূল দাঁড় করিয়েছিল সুনীলকে। অসুবিধে হয়নি জিততে। এ দিন মমতা বলেন, “আমরাও ভুল করেছি। বিকাশ বসু মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রীকে টিকিট না দিয়ে কে কার আত্মীয় দেখে টিকিট দিয়েছিলাম।” বুঝতে কারও অসুবিধে হয়নি কাকে নিশানা করছেন দিদি।

একই সঙ্গে মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের নাম না করে মমতা বলেন, “বাবা তৃণমূল করত, ছেলেকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এগুলো এ বার আমাদের ভাল করে দেখতে হবে।” ইতিমধ্যে শুভ্রাংশু রায়ও যোগ দিয়েছেন বিজেপি-তে। সঙ্গে হালিশহর ও কাঁচড়াপাড়া পুরসভার সিংহভাগ কাউন্সিলর। ভবিষ্যতে টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে যে তিনি আরও কঠোর হবেন তাও এ দিন স্পষ্ট করে দেন দিদি।

পঞ্চায়েতের টিকিট বিলিও যে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে হয়নি তাও এ দিন মেনে নেন মমতা। বলেন, “৭০ হাজার টিকিট তো আর আমি দিতে পারি না। যাঁদের নাম করে টিকিট নেওয়া হল, পরে দেখা গেল লোক বদলে গিয়েছে।” পরের বার থেকে ডেটা ব্যাঙ্ক করে একটা একটা করে টিকিট কালীঘাট থেকেই দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মমতা। পঞ্চায়েত ভোটের সময় টিকিট পাওয়া নিয়ে গোষ্ঠী কোন্দল চরমে উঠেছিল তৃণমূলের। কোচবিহার, পূর্ব বর্ধমান, হুগলির মতো জেলাগুলি থেকে তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন, পয়সার বিনিময়ে জেলার নেতারা টিকিট বিলি করেছেন। টাকার কথা না বললেও, বাকি সবটা মেনে নিয়েছেন নেত্রী।

যদিও বিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার এ নিয়ে বলেন, “আর কয়েক মাস পরে দিদিমণির দলে টিকিট দেওয়ার আর কেউ থাকবে না। লোক ডেকে বলতে হবে প্রার্থী হও গো, প্রার্থী হও গো। সুতরাং ওঁকে অত পরিশ্রম করতে হবে না।”

Comments are closed.