মেয়ের বিয়ের নিমন্ত্রণ করতে গিয়ে নিখোঁজ বাবা, বস্তায় উদ্ধার দেহ

৬৬৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেহ উদ্ধারের তিনদিন পর শনাক্ত করল ছেলে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত বুধবার সকালে হীরাপুর থানার নরসিংহ বাঁধের মিঠাই গলিতে বছর ৪৫-এর এক ব্যক্তির বস্তা বন্দি দেহ উদ্ধার হয়। মিঠাই গলির ভেতর জঙ্গলে একটা চটের বস্তা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। তাঁরাই খবর দেন হীরাপুর থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বস্তা থেকে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয় জেলা হাসপাতালে।

পুলিশ জানিয়েছিল, উদ্ধার হওয়া দেহের গলার অংশে কালো দড়ির দাগ ছিল। তা দেখে পুলিশ অনুমান করে যে ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান ছিল অন্য কোনও জায়গায় খুন করার পর বস্তা বন্দি দেহ এখানে এনে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। কিন্তু ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ কুকুর এনে তদন্ত শুরু করা হয়। এর পর নজরে আসে যে ওই ব্যক্তির পরনের টি-শার্টে পাণ্ডবেশ্বর থানার অন্তর্গত ওরিয়েন্ট টেলারের স্টিকার রয়েছে। এর পর আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ পান্ডবেশ্বর থানায় যোগাযোগ করে।

এদিকে কালীপূজোর কারণে বেশি কিছুদিন ওই টেলারিংয়ের দোকান বন্ধ থাকায় ওই ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা গিয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম বিজয় পাসওয়ান। আজ সকালে তাঁর দেহ শনাক্ত করেছেন মৃতের ছেলে অভিনব পাসওয়ান।

বিজয় পাসওয়ান পান্ডবেশ্বর থানার খোট্টাডিহি কোলিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে আছে। আগামী ২৯ নভেম্বর তাঁর বড় মেয়ের বিয়ে। গত সোমবার বড় ছেলেকে নিয়ে মেয়ের বিয়ের জিনিসপত্র কিনতে আসানসোল যান বিজয় বাবু। বিয়ের জিনিসপত্র কেনার পর বড় ছেলেকে সব নিয়ে বাস ধরে বাড়ি চলে যেতে বলেন তিনি। আর নিজে  মেয়ের বিয়ের নিমন্ত্রণ করতে কুলটির শীতলপুরে এক আত্মীয়র বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

মৃতের ছেলে পুলিশকে জানিয়েছেন, সোমবার রাতেও বাবার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। কিন্তু তার পর আর যোগাযোগ হয়নি। বাবার দুটো মোবাইলে ফোন করেও বারবার সুইচ অফ পান তিনি। এর পর বুধবার বিকেলে পান্ডবেশ্বর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে বিজয় পাসওয়ানের পরিবার। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিকালে পান্ডবেশ্বর থানার পুলিশ তাদের জানায় আসানসোল জেলা হাসপাতালে একটি মৃতদেহ রয়েছে। সেটি শনাক্ত করতে হবে। শনিবার সকালে মৃতদেহ শনাক্ত করেন বিজয় বাবুর ছেলে।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কীভাবে বিজয় পাসওয়ান খুন হলেন, কীভাবেই বা তাঁর বস্তা বন্দি দেহ মিঠাই গলিতে পৌঁছল তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পরিবার। এমন ঘটনায় হতবাক মৃতের ছেলেমেয়েরা। রহস্যমৃত্যুর কিনারা করতে গিয়ে ধন্দে পুলিশও। কারও সঙ্গে বিজয় বাবুর কোনও শত্রুতা ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও খুনের মামলা দায়ের করেনি মৃতের পরিবার। নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেননি তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More