মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

কোজাগরীর রাতে ধর্ষণ হয়েছিল সন্দেশখালিতে, অভিযুক্তদের ধরতে গিয়েই বোমা-গুলির মুখে পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালি যেন মধ্যযুগের কোনও জনপদ! যেখানে মাৎস্যন্যায়ই রুটিন!

দুষ্কৃতীদের বোমা-গুলিতে ইতিমধ্যেই প্রাণ গিয়েছে ভিলেজ পুলিশ বিশ্বজিৎ মাইতির। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এসআই অরিন্দম হালদার ও ও সিভিক ভলান্টিয়ার বাবুসোনা সিংহ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক গ্রামবাসী। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কেদার সর্দার ও বিধান সর্দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে  যা যা তথ্য সামনে আসছে, তা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আদৌ আইনশৃঙ্খলা বলে ব্যাপারটা আছে তো সন্দেশখালিতে?

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাতে এক মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল সন্দেশখালিতে। এরপর নির্যাতিতা মহিলা পুলিশের দ্বারস্থ হতে চাইলেও আটকে দেওয়া হয় তাঁকে। কেদার-বিধানরা সালিশি সভা বসায় গ্রামে। মুখ বুজে মেনে নেওয়া ছাড়া আর পথ খোলা ছিল না নির্যাতিতার সামনে।

দিন কয়েক পর কেদার-বিধানদের চোখ এড়িয়ে থানায় যান ওই নির্যাতিতা। গোটা ঘটনা খুলে বলেন পুলিশকে। পুলিশও মহিলার নিরাপত্তার স্বার্থে পুরোটা গোপন রাখে। কিন্তু তলে তলে খোঁজ চলছিল সর্দার ভাইদের। কারণ নির্যাতিতার অভিযোগ ছিল, লক্ষ্মীপুজোর রাতে কেদার-বিধান মিলেই তাঁর উপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল। হুমকি দিয়েছিল, পুলিশকে কিছু জানালে লাশ ফেলে দেবে।

কালীপুজোর রাতেই পুলিশের কাছে খবর ছিল কেদার-বিধান এলাকায় ঢুকেছে। এরপর শুক্রবার রাতে একটি বিচিত্রানুষ্ঠানের পাশেই প্রকাশ্যে মদ-জুয়ার আসর চলার খবর পায় পুলিশ। টহলদারিতে বেরিয়ে খুলনা পুলিশ দেখতে পায় গ্রামের আতাপুর ফেরিঘাটের কাছে বেশ কয়েকজনকে রাস্তার উপর বসে মদ খাচ্ছে। এরপর এসআই অরিন্দম হালদারের নেতৃত্বে বিরাট বাহিনী আসছে দেখেই গুলি বোমা ছোড়া শুরু করে দুষ্কৃতীরা।

বছর কয়েক ধরে সুন্দরবনের ত্রাস হয়ে উঠেছে শেখ শাজাহানের কাছের লোক শাসক দলের ঘনিষ্ঠ কেদার সর্দার। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর একদা সিপিএম-ঘনিষ্ঠ শেখ শাজাহান তৃণমূলে যোগ দেন। এবারের লোকসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর গত ৮ই জুন বিজয় মিছিলকে ঘিরে সংঘর্ষে সন্দেশখালির ন্যাজাটে খুন হন দুই বিজেপি কর্মী প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল। নিখোঁজ হয়ে যান দেবদাস মণ্ডল নামে আরও এক বিজেপি কর্মী। সে ঘটনায় তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। ঘটনায় নাম জড়ায় শেখ শাজাহান ও বাবু মাষ্টারের।

গ্রামের মানুষ জানান, বাম আমলে সুন্দরবনের অলিখিত শাসন ক্ষমতা থাকলেও কোনও পদ পাননি তাঁরা। তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রচ্ছায়ায় এসে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন বাবু মাষ্টার। শেখ শাজাহান তাঁরই সাকরেদ। আর খুলনা অঞ্চল শেখ শাজাহানের হয়ে দেখাশোনা করে কেদার সর্দার ও তার ভাই বিধান সর্দার। বিভিন্ন সমাজবিরোধী কাজকর্মের জন্য এর আগেও বহুবার জেলে গিয়েছে দুই ভাই।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম চাপানউতর শুরু হয়েছে। যদিও কেদার-বিধানের মা জানিয়েছেন, তাঁদের গোটা পরিবার এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী। কেদারের স্ত্রী আবার পঞ্চায়েতের সদস্য। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সন্দেশখালির আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে, একজন মহিলাকে ধর্ষণ করার পর অভিযুক্তরা গ্রামে সালিশি সভা বসাল, তাও পুলিশ কেন কিছু জানতে পারল না? পুলিশের যদি নিরাপত্তার এই দশা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অবস্থা কী?

Comments are closed.