শনিবার, মার্চ ২৩

ফর্মুলা বদলাচ্ছেন নাকি দিদি? প্রার্থী তালিকায় বিধায়ক, মন্ত্রীও!

শঙ্খদীপ দাস

দ্য ওয়াল আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল। হতে পারে সেটাই ভবিতব্য হতে চলেছে। শেষ মুহূর্তে কৌশলের কোনও পরিবর্তন না হলে, লোকসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় জোর ধাক্কা লাগতে পারে পরিবর্তনের। সেই পরিবর্তন শুধুমাত্র কয়েকটা মুখের বদল নয়। হতে পারে ছবিটা তার থেকেও বৃহত্তর। লোকসভা আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গত দুটি ভোটে যে ফর্মুলা প্রয়োগ করেছিলেন তিনি, এ বার নিজে হাতে সেটাই বদলে দিতে পারেন।

বস্তুত লোকসভা ভোট এলেই এক শ্রেণির বিধায়ক যে টিকিট পাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে পড়েন, তা ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন নয়। ব্যতিক্রম নয় তৃণমূলও। চোদ্দর ভোটের সময়েও তৃণমূলের বেশ কিছু বিধায়ক লোকসভায় টিকিট পেতে তদ্বির করতে নেমে পড়েছিলেন। বিশেষ করে যাঁরা মনে করেছিলেন, রাজ্য মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার আশু কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কোনও বিধায়কই টিকিট পাবেন না। লোকসভা ভোটের পরই আবার বিধানসভার উপ নির্বাচন করানোর ঝক্কি নেওয়া যাবে না।

কিন্তু এ বার অতীতের ফর্মুলা দিদি নিজে হাতেই ভাঙতে পারেন বলে খবর। শুধু বিধায়ক কেন, রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য, এমনকী তৃণমূলের রাজ্যসভার এক সাংসদকেও লোকসভায় প্রার্থী করতে পারেন মমতা। যেমন, সূত্রের খবর, কোতুলপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই দিদি প্রায় সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছেন। আবার আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে শ্রম এবং জন স্বাস্থ্য কারিগরী মন্ত্রী মলয় ঘটককে প্রার্থী করলেও বিস্ময়ের কারণ নেই।

আরও পড়ুন: Exclusive: বাংলায় চোদ্দ-আঠাশ ফর্মুলাতে গাঁটছড়ার পথে বাম-কংগ্রেস

তৃণমূলের এক শীর্ষ সারির নেতার কথায়, বাস্তব হল দলে যোগ্য প্রার্থীর কিছুটা অভাব তো রয়েছেই। অনেক নেতার বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাও রয়েছে। বিধানসভা ভোটের সময় দিদি তাই ঘুরে ঘুরে বলেছিলেন, ২৯৪টি আসনে আমিই প্রার্থী। আমাকে ভোট দিন। কিন্তু লোকসভা ভোটে সেই কৌশল সর্বত্র খাটবে বলে মনে হয় না। তাই মমতা বেছে বেছে এমন প্রার্থী দিতে চাইছেন, যাদের প্রকৃতই জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। বলতে গেলে সেই ‘উইনেবল ক্যান্ডিডেটের’ খোঁজেই এ বার কিছুটা হয়রান অবস্থা। তাই কোথাও বিধায়ককে, কোথাও মন্ত্রীকে, কোথাও আবার রাজ্যসভার সাংসদের নামও ভাবা হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, বাংলা থেকে লোকসভায় ৪২ টি আসনের মধ্যে ৩৫ টিই (তৃণমূলের ৩৪টি, সেই সঙ্গে এখন উত্তর মালদহর কংগ্রেস সাংসদ মৌসম নূর দিদির হাত ধরেছেন) যখন রয়েছে তৃণমূলের দখলে, নতুন মুখ তো খুব বেশি দরকার নেই। জবাবে তৃণমূলের শীর্ষ সূত্র বলছে, আসলে বহু আসনে বর্তমান সাংসদদের টিকিট নাও দিতে পারেন দিদি। যেমন, বাঁকুড়ায় মুনমুন সেন, ঘাটালে অভিনেতা দেব, মেদিনীপুরে সন্ধ্যা রায়, কৃষ্ণনগরে তাপস পাল, ঝাড়গ্রামে উমা সরেন, পুরুলিয়ায় মৃগাঙ্ক মাহাতো, বসিরহাটে ইদ্রিস আলি, হাওড়ায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, আলিপুরদুয়ারে দশরথ তিরকে এবং কোচবিহারে পার্থপ্রতিম রায়বর্মনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে তৃণমূলের ওই সূত্রের দাবি। তা ছাড়া বোলপুর এবং বিষ্ণপুরের দুই সাংসদকে আগেই বহিষ্কার করেছেন দিদি। ফলে সব মিলিয়ে ৪২ টি আসনের মধ্যে নতুন দশ থেকে বারোটি মুখের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এই আসনগুলির কয়েকটিতে স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রীকে টিকিট দিতে পারেন দিদি। আবার মেদিনীপুর আসনে প্রার্থী করা হতে পারে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ তথা প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা মানস ভুইঞাঁকে।

সূত্রের মতে, নতুন যাঁদের প্রার্থী করা হবে তাঁদের অনেককেই ইতিমধ্যে বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদি মনে করছেন, মঙ্গলবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করে দিতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার আগে ২৫ তারিখ নজরুল মঞ্চে কোর কমিটির বৈঠক থেকে প্রার্থী তালিকা নিয়ে হাল্কা কোনও ইঙ্গিত দিলেও দিতে পারেন। এবং সত্যিই যদি ২৬ তারিখ ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা হয়ে যায়, তা হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন:

Exclusive: বাংলায় চোদ্দ-আঠাশ ফর্মুলাতে গাঁটছড়ার পথে বাম-কংগ্রেস

Shares

Comments are closed.