মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

বাবুল সুপ্রিয় মরসুমি পাখি, আসানসোলে দাঁড়িয়ে কটাক্ষ ববি হাকিমের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আসানসোল: দু’দিন আগেই দিদিকে বলো নিয়ে প্রকাশ্য সভা থেকে কটাক্ষ করেছিলেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, “ওটা দিদিকে বলো নয়। দিদিকে হরি বলো।” শুক্রবার আসানসোলে দাঁড়িয়েই বাবুলকে মরসুমি পাখি বলে পাল্টা তোপ দাগলেন রাজ্যের পুর ও নগরন্নোয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। আসানসোলের অগ্নিকন্যা ভবনে তৃণমূলের কর্মীসভায় তিনি বলেন, “বাবুল সুপ্রিয় মাইগ্রেটরি বার্ড (মরসুমি পাখি)। সুখের সময়ে আসবে আবার দুঃখের সময়ে চলে যাবে।”

রানিগঞ্জের আমরাসতা মোড়ে বিজেপি পার্টি অফিস উদ্বোধনের সভায় বাবুল বলেছিলেন, “দিদিকে বলোতে ফোন করলেই কে কোন পার্টি করে জিজ্ঞেস করছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিয়ে গোটা ব্যাপারটাকে মজায় পরিণত করেছে তৃণমূল।” এ দিন তারই পাল্টা দিলেন ফিরহাদ।

অনেকে বলেন, আসানসোলে তৃণমূল হারার অন্যতম কারণ দলের ভিতরের কোন্দল। মলয় ঘটকের গোষ্ঠীর সঙ্গে জিতেন তিওয়ারির গোষ্ঠীর ইগোর লড়াই। এ দিন সে ব্যাপারেও কর্মীসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দেন ফিরহাদ। তাঁর কথায়, “একসঙ্গে কাজ করুন। কোনও ইগো রাখবেন না। সব ইগো ভুলে মানুষের সেবায় মন দিন।”

গতবার প্রথম ভোটে দাঁড়িয়ে আসানসোলে জিতেছিলেন বাবুল। তাই এ বার তৃণমূল মরিয়া হয়ে নেমেছিল শিল্পাঞ্চলের এই আসন ছিনিয়ে নিতে। বাঁকুড়া থেকে মুনমুন সেনকে তুলে এনে প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে গিয়ে একাধিক সভা করেছেন। বাবুলকে ‘আন কালচারড’ বলে তোপ দেগেছেন। কিন্তু এ বারও মার্জিন বাড়িয়ে জিতেছেন গায়ক বাবুল। একাধিক ফর্মূলা প্রয়োগ করা হয়েছিল শাসক দলের পক্ষ থেকে। আসানসোলের মেয়র জিতেন তিওয়ারি প্রকাশ্য সভায় দলীয় কর্মীদের অফার দিয়েছিলেন, যে যেখানে যত লিড দেবে, তেমন আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও ফর্মুলাই কাজে আসেনি। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, পরপর দু’বার গো হারা হেরে তৃণমূলের মধ্যে একটা হতাশা তৈরি হয়েছে। ববিবাবুর কথা তারই বহিঃপ্রকাশ।

Comments are closed.