বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

রায়দিঘিতে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে দুপুরের খাওয়া সারলেন মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দলনেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ানোর। সেই নির্দেশ মেনে রায়দিঘিতে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করলেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ চৌধুরী মোহন জাটুয়া। শুধু খাওয়াই নয়, ওই কর্মীর কাছে এলাকা নিয়ে অভাব-অভিযোগও শুনলেন তৃণমূল সাংসদ।

শনিবার রায়দিঘির বিজেপি অঞ্চল কমিটির সদস্য তপন কপাটের বাড়ি যান জাটুয়া। তাঁর সঙ্গে দলের আরও কিছু কর্মী ছিলেন। সবাই মিলে বিজেপি কর্মীর বাড়িতেই দুপুরের খাওয়া সারেন। এলাকার কী সমস্যা আছে, তা নিয়ে কথাও হয় তপনবাবুর সঙ্গে।

সূত্রের খবর, তপনবাবু জানান, এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল। হাসপাতালেও ডাক্তার নেই। একজন ডাক্তার আছেন, তাঁর পক্ষে সবদিক সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় ব্রিজের অবস্থাও খুব খারাপ। রাস্তার ঢালাই উঠে গিয়ে জায়গায় জায়গায় গর্ত হয়েছে। এই সব দিকে সাংসদকে নজর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ওই বিজেপি কর্মী।

দুপুরের খাওয়ার পর তপনবাবুকে প্রশ্ন করা হয়, বিজেপি কর্মী হয়ে তৃণমূল সাংসদের এ ভাবে বাড়ি আসাকে কীভাবে দেখছেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, “আমি সাধারণ মানুষ। উনি আমাদের এমপি। এমপি হিসেবেই আমি ওনাকে গ্রহণ করেছি। অতিথি হিসেবেই উনি আমার বাড়িতে এসেছেন। আমি ওনাকে আপ্যায়ণ করেছি।”

আর সাংসদ নিজে কী বলছেন? এই ব্যাপারে সিএম জাটুয়ার বক্তব্য, “সাংসদ হিসেবে আমি কোনও দল দেখি না। আমি দু’লক্ষের বেশি ভোটে জিতেছি। তাই সবাইকে আমি আমার কাছের লোক মনে করি। এখানেও আমি কোনও দল দেখে আসিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার সমস্যা শুনতে এসেছি।”

উনিশের লোকসভায় খারাপ ফলের পর তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের বাড়িতে রাত কাটাতে। তাঁদের সমস্যার কথা শুনতে। যোগাযোগ বাড়াতে। এমনকী বিরোধী দলের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলার নিদান দিয়েছিলেন মমতা। আর সেই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু তৃণমূল নেতা এই জনসংযোগের কাজে লেগে পড়েছেন। সেই তালিকায় নতুন যোগ হলেন মথুরাপুরের সাংসদ চৌধুরী মোহন জাটুয়া।

Comments are closed.