তৃণমূলকে খড়্গপুরে সমর্থনের প্রস্তাব জানিয়ে সনিয়াকে চিঠি আবদুল মান্নানের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বছর আগের কথা। তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তিনিই প্রথম বাম-কংগ্রেসের জোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই তিনি, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান এ বার সনিয়া গান্ধীকে প্রস্তাব দিলেন, খড়্গপুর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন করা হোক।

    খড়্গপুর সহ বাংলায় তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হবে সামনের মাসের ২৫ তারিখ। সেই ভোটে তৃণমূল ও বিজেপি-কে রুখতে জোটের প্রাথমিক রফাসূত্র নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা সেরে ফেলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র ও সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। কিন্তু তার মধ্যেই মান্নান সাহেব সনিয়া গান্ধীকে যে চিঠি লিখেছেন তাতে হই চই পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

    ২০১৬-র ভোটে সিপিএম তথা বামেদের সঙ্গে জোট করেই চাঁপদানি বিধানসভা থেকে জিতেছিলেন আবদুল মান্নান। এখনও ওই বিধানসভা এলাকায় যে কোনও বাম গণসংগঠনের কর্মসূচিতে ডাক পান এই কংগ্রেস নেতা। তাঁর এ হেন চিঠি কিঞ্চিত আন্দোলিত করেছে বামেদেরও। তবে এই চিঠির ব্যাপারে মান্নান সাহেব কোনও মন্তব্য করেননি। শুধু বলেছেন, “কংগ্রেস সভাপতিকে আমি কি চিঠি লিখেছি তা নিয়ে বাইরে কোনও মন্তব্য করব না।”

    সনিয়া গান্ধীকে লেখা আবদুল মান্নানের চিঠি

    যদিও ঘরোয়া আলোচনায় বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দলের মধ্যে বলেছেন, গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, বিবেক পৃথিবীর সব থেকে বড় আদালত। এই অবস্থা না নিলে আমার বিবেক দংশন হবে।

    কেন এই অবস্থান তিনি নিয়েছেন তার ব্যাখ্যা অনুগামীদের দিয়েছেন মান্নান সাহেব। তিনি বলেছেন, আমার উদ্দেশ্য উপ নির্বাচনে একের বিরুদ্ধে এক লড়াই সুনিশ্চিত করা। অর্থাৎ বিজেপিকে ঠেকানো। দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা যখন চ্যালেঞ্জের মুখে তখন বিজেপি-র বিরুদ্ধে যে যেখানে শক্তিশালী সে সেখানে লড়ুক। বামেরা কালিয়াগঞ্জে কংগ্রেসকে সমর্থন দেবে বলেছে। কারণ ওখানে কংগ্রেস শক্তিশালী। কংগ্রেস করিমপুরে সমর্থন করবে সিপিএমকে। কেন না বামেদের সংগঠন সেখানে কংগ্রেসের তুলনায় মজবুত। কিন্তু খড়্গপুরে কংগ্রেস বা বামেদের—কারওরই শক্তি নেই। তাই সেটা তৃণমূলকে ছেড়ে দেওয়া হোক। এই তিনটি আসনে বিজেপিকে ঠেকিয়ে দিতে পারলে বৃহত্তর রাজনীতির আঙ্গিকে বাংলা থেকে একটা বার্তা যাবে। একুশের ভোটের আগে বাংলায় বড় সড় ধাক্কা খাবে বিজেপি।

    দলের মধ্যে মান্নান সাহেব নাকি এও বলেছেন, এই অবস্থান নেওয়ার জন্য কেউ যদি আমার সম্পর্কে কুকথা বলেন, অভিযোগ করেন যে আমি তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাত করছি—তাতে কিছু যায় আসেন না।বস্তুত কংগ্রেস রাজনীতিতে মান্নান সাহেবের নিষ্ঠা নিয়ে আগে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি। তবে রাজনীতিতে নীতির প্রশ্নে একগুঁয়ে বলে তিনি পরিচিত। ভুলে গেলে চলবে না, সারদা কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের জন্য মূল উদ্যোগ ছিল তাঁরই।

    এখন প্রশ্ন হল, কংগ্রেস-সিপিএম কেন নিজেদের মধ্যে জোট চাইছে? এ ব্যাপারে সোমেন মিত্র বা সূর্যকান্ত মিশ্রদের নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে। তা হল, বিজেপি এবং তৃণমূল এরা একে অপরের পরিপূরক। বাংলায় বিভাজনের রাজনীতির জন্য এরা দুজনেই সমান দোষে দোষী। তৃণমূলের কারণেই বাংলায় বিজেপির বাড় বাড়ন্ত। তাই এই দু’দলকেই হারাতে হবে।

    তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম ও কংগ্রেসের প্রথম লক্ষ্য হল এমন পদক্ষেপ করা যাতে তৃণমূল বিপদে পড়ে। কারণ, সোমেন মিত্র বা সূর্যকান্ত মিশ্ররা হয়তো বুঝতে পারছেন বিজেপিকে ঠেকানোর তুলনায় আগে তৃণমূলকে হারানো বেশি জরুরি।তৃণমূল ক্ষমতাচ্যূত হলে তবেই বাংলায় ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পরিসরের দখল নিতে পারবেন তাঁরা।

    সন্দেহ নেই, বল এখন সনিয়া গান্ধীর কোর্টে। সর্বভারতীয় রাজনীতির কথা মাথায় রেখে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতার পথে যাবেন, নাকি রাজ্য নেতাদের কথা শুনে বামেদের সঙ্গে রাখতে চাইবেন, সেটাই দেখার।

    পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More