বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের, নন্দকুমারে মামাকে খুন করে পুঁতে দিল মামী-ভাগ্নে, জেরার মুখে দোষ কবুল অভিযুক্তদের

সম্পর্কে মামী আসমা বিবির সঙ্গে ভাগ্নে দুলাল আলির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে গ্রামে কয়েক বার সালিশি সভা হয়। এর পরে মামা নুর মহম্মদকে ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেয় দুলাল আলি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে খুন হলেন এক ব্যক্তি। অভিযোগ, নূর মহম্মদ (৪২) নামে ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও ভাগ্নে তাঁকে খুন করে ঘরের মধ্যেই পুঁতে দেয়। পুলিশের জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্তরা। মাটি খুঁড়ে বের করা হয়েছে দেহ। এর পরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মহিলার বাড়ি ভাঙচুর করে।

    ফতেপুরের আসমা বিবির সঙ্গে ধাননগরের নুর মহম্মদের বিয়ে হয় সতেরো বছর আগে। তাঁদের একটি ১৪ বছরের ছেলেও আছে। তাঁদের বিয়ের বছর দুই পর থেকে আসমা বিবির সঙ্গে পাশের গ্রাম শ্যামসুন্দরপুরের দুলাল আলির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও অশান্তি লেগে থাকত। আসমা বিবির বয়স ৩৫ বছর। ভাগ্নের বয়স তাঁর বয়সের প্রায় সমান।

    প্রতিবেশীদের অভিযোগ, সম্পর্কে মামী আসমা বিবির সঙ্গে ভাগ্নে দুলাল আলির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে গ্রামে কয়েক বার সালিশি সভা হয়। এর পরে নুর মহম্মদকে ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেয় দুলাল আলি।

    নুর মহম্মদের মায়ের অভিযোগ, প্রায় দিন দশেক আগে তাঁর ছেলে ও বৌমা দুজনেই আসমা বিবির বাপের বাড়ি যায়। কিন্তু তার পরের দিনই আসমা বিবি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যায় তবে একা। নুর মহম্মদ কেন আসেনি একথা তিনি জানতে চান। তিনি বলেন, “আসমা বিবি তখন আমাকে বলেছিল, নুর মহম্মদ লরি চালানোর জন্য গাড়িতে উঠেছে। প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও নুরের মোবাইলে ফোন করা হলে প্রথমে কেউ তা ধরেনি। বারবার ফোন করার পরে এক জন অচেনা ব্যক্তি ফোন ধরে জানায় এক লক্ষ টাকা দিলে তবে জানাবে নুর মহম্মদ কোথায় আছে। কিন্তু তার পরেই সেই ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়।” তখন সন্দেহের বশে আসমা বিবিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন জেরা করতে শুরু করে। আসমা বিবির কথা তাঁরা অসঙ্গতি দেখতে পান।

    এর পরেই নুর মহম্মদের বাড়ির লোকজন নন্দকুমার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার নন্দকুমার থানার পুলিশ দুলাল আলি ও আসমা বিবিকে আটক করে। পাশাপাশি দু’জনকে বসিয়ে পুলিশ জেরা করলে তারা স্বীকার করে নুর মহম্মদকে তারা খুন করেছে। তারা জানায় দেহ বাড়ির মধ্যেই পুঁতে রেখেছে।

    শনিবার সকালে নন্দকুমার থানার পুলিশ আসমা বিবির বাপের বাড়িতে যায়। ডেপুটি  ম্যাজিষ্ট্রেট ইয়েসি তামাংয়ের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে দেহ তোলা হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নন্দকুমার থানায় পাঠানো হয়। তারপরেই এলাকার লোকজন সেই বাড়িটি ভাঙচুর করে। পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More